প্রশাসনের চোখের সামনেই কলাপাড়ার হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে জাটকা

1

 

বিশেষ প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া-রাঙ্গাবালীর উপকূলীয় এলাকায় জাটকা নিধন রোধে সরকারের নেয়া উদ্দোগ কোন কাজে আসছেনা। এক শ্রেনীর অসাধু আড়ৎদারদের ইন্ধনে উপকূলীয় এলাকার হাট-বাজার এখন জাটকা ইলিশে সয়লাব। মৎস্য বিভাগ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের চোখের সামনে উপকূলীয় এলাকার হাট-বাজারে প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি অব্যাহত থাকলেও যথাযথ আইনের প্রয়োগ হচ্ছেনা। এছাড়া মৎস্য বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সমন্বিত অভিযানের তথ্য আগাম ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সরকারি অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত জাটকা নিধন প্রতিরোধ অভিযান সফল হচ্ছেনা। ফলশ্রুতিতে উপকূলীয় এলাকার নদ-নদী ও সমুদ্র থেকে রুপালী ইলিশ ক্রমশ: হারিয়ে যাচ্ছে।

 

সরেজমিনে জানা যায়, পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার নদ-নদী ও সমুদ্রে প্রতিদিন সহ¯্রাধিক জেলে জাটকা নিধনের কাজে জড়িত রয়েছে। অসচেতন এ সকল জেলেদের জাটকা নিধন কাজে জাল-নৌকা, মুঠোফোনসহ প্রয়োজনীয় মাছ শিকারের উপকরন দিয়ে সহায়তা করছে এক শ্রেনীর অসাধু মৎস্য আড়ৎদার। এ সকল আড়ৎ মালিকদের সখ্যতা রয়েছে উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজারের মাছ বিক্রেতা সিন্ডিকেটের সাথে। এ সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করছে উপকূলীয় জেলে সমিতির সাইনবোর্ডধারী কতিপয় নেতা। এরা ক্ষমতাসীন দলের নাম সহ মৎস্য বিভাগ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের নাম ভাঙ্গিয়ে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে। এমনকি জাটকা নিধন প্রতিরোধ অভিযান সম্পর্কিত আগাম তথ্য আড়ৎ মালিকদের সরবরাহ করায় মুঠো ফোনের নির্দেশনায় জেলেরা নদ-নদী ও সমুদ্র থেকে ছোট ফাঁসের জাল লুকিয়ে ফেলছে। ফলে সরকারী অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত জাটকা নিধন প্রতিরোধ অভিযান সফল হচ্ছেনা। সম্প্রতি কলাপাড়ায় কোষ্টগার্ডের অভিযানে জব্দ করা ছোট ফাঁসের জাল স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ী থেকে কলাপাড়া থানা পুলিশ উদ্ধার করায় কোষ্টগার্ডের জাটকা নিধন প্রতিরোধ অভিযান উপকূলীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এছাড়া মাঝে-মধ্যে মৎস্য বিভাগ ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ছাড়া পুলিশ, কোষ্টগার্ড সদস্যরা নৌযান নিয়ে নদ-নদীতে অবস্থান নেয়ার বিষয়ে উপকূলীয় এলাকায় গুঞ্জন শোনা গেলেও এ বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস করছেনা কেউ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, কলাপাড়া উপকূলীয় জেলে সমিতির সভাপতি সালাম বিশ্বাস নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয় দিয়ে কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী এলাকার বেশ কিছু মৎস্য আড়ৎ মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জাটকা নিধন অভিযানের তথ্য সরবরাহ করার কন্টাক্ট নিয়েছেন। এ জন্য আড়ৎ মালিকদের কাছ থেকে তিনি অগ্রিম টাকা নিয়েছেন। কিন্তু তার পরও জেলেদের জাল কোষ্টগার্ড সদস্যদের হাতে আটক হওয়ায় থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে। এছাড়া মৎস্য বিভাগের সাথে সালাম বিশ্বাসের সম্পর্কে ভাটা পড়ায় সালাম বিশ্বাস তার অনুগত জনৈক সাইদুল ইসলামকে দিয়ে মৎস্য কর্মকর্তার নামে আদালতে মামলা করিয়েছেন বলে দাবী করছে সূত্রটি।

 

মাছ বিক্রেতাদের সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী এলাকার হাট-বাজারে এবং খুচরা বিক্রেতারা মাথায় নিয়ে ফেরি করে জাটকা বিক্রী করছে। মন প্রতি স্থানীয় প্রশাসনকে ২০০-৩০০ টাকা দেয়া হচ্ছে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই জাটকা মাছ আহরন এবং বিক্রী করা হচ্ছে বলে দাবী করছে সূত্রটি।

 

কলাপাড়া মৎস্য বিভাগের সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো: কামরুল ইসলাম জানান, উপকূলীয় এলাকায় জাটকা নিধন অভিযান শতভাগ সফল করার চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে পুলিশ, কোষ্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীর সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে। #