প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হল বাল্য বিয়ে

1

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় উত্তর টিয়াখালী গ্রামের মো: স্বপন আকনের  কিশোরী কন্যা স্কুল ছাত্রী সাবিহা ইসলামের (১৪) বিয়ের পিড়িতে বসার কথা। কিন্ত খবর পেয়ে এ বিয়েতে বাঁধ সাদলেন আমতলী উপজেলা প্রশাসন। তারা মেয়েটির বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বাবা মাকে বুঝিয়ে বিয়ে ভেঙ্গে দিলেন। না বুঝে কিশোরী কন্যার বিয়ের আয়োজন  করায় বাবা মা এক দিকে  অনুতপ্ত অন্য দিকে বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ায় মেয়েসহ পরিবারের সবাই এখন খুশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমতলী সদর ইউনিয়নের উত্তর টিয়াখালী গ্রামের মো: স্বপন আকনের কিশোরী কন্যা চলাভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্রী ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী সাবিহা ইসলামের (১৪) সাথে একই ইউনিয়নের পুজাখোলা গ্রামের হোসেন মোল্লার ছেলে মো: মহসীন মোল্লার বিয়ের দিন ক্ষন ধার্য করা হয় বুধবার রাত সাড়ে ৮টায়। বিয়ের দিন ক্ষন শুনে সাবিহা কান্নাকাটি করে তার বাবামাকে বিয়ে না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন এবং লেখা পড়া চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যাক্ত করেন। কিন্ত বাবা মা মেয়েটির কথায় কর্নপাত না করে বুধবার রাতে  বিয়ের  সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন।  বিয়ের আয়োজন দেখে বুধবার সকালে সাবিহা গোপনে  এনএসএস’র কর্মী সাবিনা ইয়াসমিনের সহযোগিতায় আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মুশফিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করেন।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: নাজমুল আলম বুধবার দুপুর ১টায় সাবিহা ইসলামের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার বাবা স্বপন আকন ও মা পারুল বেগম ও চাচা আব্দুল হাই আকনের সাথে আলোচনা পর তারা কিশোরী কন্য সাবিহার বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার সিদান্ত নেন এবং মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যাক্ত করেন। মা পারুল বেগম জানান, ‘মোরা না বুইঝা এই ছোড মাইয়াডারে বিয়া দিতে চাইছিলাম। ছারেরা আওয়ায় মোগো ভুল ভাংছে। মাইয়াডারে এহন ল্যাহাইতে পড়াইতে চাই’। বিয়ে বন্ধ হওয়ায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে সাবিহা জানান, ‘আমি এখন লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হতে চাই’। আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: নাজমুল আলম জানান, বাল্য বিবাহ আইনত দন্ডনীয় অপরাধ, এটা না বুঝে মেয়েটির বাবা মা বিয়ের আয়োজন করেছিল। বাবা মায়ের ভুল ভাঙ্গার পর তারা এখন মেয়েটিকে আর বিয়ে দিবে না এবং লেখা পড়া চালিয়ে নিবে বলে অঙ্গীকার করেছে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মুশফিকুর রহমান জানান, বাল্য বিবাহটি বন্ধ করতে পারায় আমরা আমরা অন্তত সমাজের একটি অপরাধ থেকে মুক্তি পেয়েছি।