প্রশিক্ষক আব্দুল কাদের নাম নেই মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়

9

স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামে আব্দুল কাদের সিকদার রাজাকারের গতিবিধি ও লক্ষ্যবস্তু জানার বিশেষ ডিউটি পালনসহ মুক্তিবাহিনীরেকে প্রশিক্ষন দেন আবদুল কাদের সিকদার। দীর্ঘ ৯ মাস বিভিন্ন ক্যাম্পে অপারেশন চালিয়ে মেলেসিয়া বাহিনীকে প্রশিক্ষণসহ সনদ প্রদান করেন। দীর্ঘবছর ভিডিআর চাকরী করে অবসর জীবনে বৃদ্ধ বয়সে নানা রোগে ভুগছে। এ দিকে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা বাছাই চললেও আব্দুল কাদের সিকদার সেই তালিকার নাম অর্ন্তভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামে আব্দুল কাদের সিকদার। পিতা-মৃত্যু আলী আকবর সিকদার। ষাটোর্ধ বয়সী কাদের সিকদারের দুই ছেলে সন্তান ও তিন কন্যা রয়েছে। বর্তমান বাতজনিত রোগ হাটু ব্যাথায় ভুগছে। ১৯৬৮ সালে বাউফল হাইস্কুল থেকে নবম শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও দারিদ্রতার কারনে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি। কর্মসংস্থানের জন্য পাক পুলিশ বাহিনীতে চাকরী নেয়। কিন্তু চাকরী বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। দেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য সংগ্রামে ডাক দিলে এ ডাকে সারা দিয়ে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন তিনি। উপজেলার বাউফল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজিরুল হক নজির মিয়া বাড়িতে পাকবাহিনী এবং রাজাকার গতিবিধি ও লক্ষ্যবস্তু জানার জন্য বিশেষ ডিউটি পালন করেন। ওই সময় বর্তমান ইউনিয়ন কমান্ডার মো: নুরু হোসেন, ব্যাংকার মো: শাহজাাহান মিয়া, জেলা আনসার এজুটেন আ: রাজ্জাক খান, নায়েব সুবেদার এসিস্টান সেরাজুল ইসলাম মোল্লা সহ ১৫ জনকে মাস ব্যাপী প্রশিক্ষন প্রদান করেন। রাইফেল নং ২০৩ (সম্ভ্যব্য ধারনা) অস্্র নিয়ে নায়েব সুবেধার আ: রাজ্জাক,হাবিলদার মুকিব আলী,আ সোবহান, মে: সেলিম খান সঙ্গে নিয়ে পাক বাহিনী ও রাজাকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। বাউফল থানার ধুলিয়া ক্যাম্পে পঞ্চম আলী বাহিনীর দলে যোগদেন । কনকদিয়া মজিদ মেম্বার বাড়িতে ক্যাম্পে অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের ছোট ছোট দলকে একত্রিকরন ভূমিকা সহায়ক মুক্তিযোদ্ধা এস.এ জলিল হিরু তার স্বাক্ষী রয়েছে। কাছিপাড়া প্রাইমারি স্কুলে ২০ দিন বর্তমান জেলা কমান্ডার আবদুল বারেকসহ ৩০ জন অবস্থান করেন এ সময় কালিশুরী পাকহানাদার বাজারে হামলা করলে পুড়িয়ে দেয় ওই নিবারণ করার জন্য বিশেষ ভুমিকা পালন করেন। পটুয়াখালী ফাতরা ইউনিয়ন সামাদ মোক্তারের বাড়ি ১ সপ্তাহ থাকাকালীন ইউনিয়ন কমান্ডার মো: ফজলু অপারেশন মোল্লা বাড়িতে রাজাকার ধরার জন্য অপারেশন চাল্ায়। এ সময় কঠের বন্ধুক এবং রামদাসহ ৭ জন রাজাকার আটক করেন। বাকেরগঞ্জ হাইস্কুল আলতাফ হায়দার পাটির সাথে সংযুক্ত হয়ে দলে ৩০ জন ১সপ্তাহ ধরে ছোট খাটো ঘটনা প্রতিরোধ চেষ্টা করেন। পরে বিঘাই বাজার অবস্থান নেয়। সুবিধখালী থানা এবং আমতলী থানা শেল্টার নিয়ে অবস্থান করে ৭০ জন অবস্থান নেয় দুটি দুই দলে মধ্যে আর্মি নায়েক সুবেধার আ: রাজ্জাক দলে ছিলেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিকদার জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা বারবার তুলে ধরেন তিনি। বয়স হওয়ার কারনে সন-তারিখ এবং ঘটনা স্থান ভুলে যাচ্ছে তবু স্থানের নাম বারবার ম্মরণ করতে চেষ্টা করছে। স্বাধীনতার যুদ্ধের প্রথম দিকে ১৯৭৯ পাকিস্থান পুলিশ বাহিনী কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন অংশ গ্রহন করেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার (আনুমানিক ১৫ দিন) পরে পালিয়ে নিজ গ্রাম বিলবিলাস আসেন। বিয়ের আড়াই বছরের মধ্যে ১ পুত্র সন্তান ঘরে রেখে স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন।তিনি আরও জানান,পটুয়াখালী বিঘাই বাজার থেকে আমতলা সুবিধখালী সাইক্লোন সেন্টারর ৪ রাজাকার ধরে গুলি করেন। পটুয়াখালী ফাতরা সামাদ মোক্তার বাড়িতে অপারেশন চালায়। সরুপকাঠী বোকাবুনিয়া নদী সংলগ্ন পাকবাহিনী বিরুদ্ধে ফায়ারিং  কার্যক্রম পরিচালনায় দলে ছিলেণ। স্বাধীনতার পর দ্বিতীয় সপ্তাহে পটুয়াখালী বর্তমান কোট ১৩০ জনকে দুই মাস ব্যাপী মেলেসিয়া প্রশিক্ষণ প্রদানসহ ক্যাপ্টেন মেহেদী সনদ, ফ্রিডম ফাইটার সার্টিফিকেট প্রদান করেন। মুক্তিযোদ্ধা কাদের যাদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন-তাদের মধ্যে আজ পৃথিবীতে বেঁচে নেই নায়েক সুবেধার আ: রাজ্জাক, আর্মি আ: সোবহান শরীফ, আর্মি হাবিলদার মুকিব আলী, মুক্তিবহিনী ২৩০ টি সনদ প্রদান করেন। তারই মধ্যে বিশেষ ভুমিকা পালনে আ: কাদের সিকদার ছিলেন অন্যতম।