ফরম পূরণ না হওয়ায় পরীক্ষা দেয়া হলো না রুবিনার

5

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ  বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রুবিনা নামের এক শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র না পাওয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ওই পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম ফরম পূরণ না করে টাকা আত্মসাত করেছে।

জানাগেছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলার তিতকাটা গ্রামের মো. হাকিম আলী জোমাদ্দারের কন্যা রুবিনা আমতলী উপজেলার  গুলিশাখালী ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে আসছে। এ বছর ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে নিবন্ধন করে। গত বছর নভেম্বর মাসে দুই হাজার টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছে। গত ২৮ জানুয়ারি (শনিবার) রুবিনা প্রবেশ পত্র সংগ্রহের জন্য বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন সেলিম পরে দেয়ার কথা বলে পাঠিয়ে দেয়। পরে আবার প্রবেশ পত্র আনার জন্য গেলে পরীক্ষার কেন্দ্রে বসে দেয়ার কথা বলে। বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে চুনাখালী পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে প্রবেশপত্র চাইলে রুবিনাকে জানিয়ে দেয়া হয় গুলিশাখালী ইসহাক ও চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একই সাথে নিবন্ধন  করায় বোর্ডের অনলাইনে ফরম পূরণ হয়নি। প্রবেশ পত্র না আসায় এ বছর ওই পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এ খবরে হতবাগ পরীক্ষার্থী ও তার অভিভাবকরা।

পরীক্ষার্থী রুবিনা অভিযোগ করে বলেন প্রধান শিক্ষক ফরম পূরণ না করে টাকা আত্মসাত করেছে। এখন বলছে আমি দু’টি বিদ্যালয়ে নিবন্ধন করায় আমার ফরম পূরণ হয়নি। সে আরও বলেন আমি গুলিশাখালী বিদ্যালয় ছাড়া আর কোন বিদ্যালয়ে নিবন্ধন করিনি।

চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ূন কবির মুঠোফোনে বলেন রুবিনা নামের কোন শিক্ষার্থীর নিবন্ধন আমার বিদ্যালয় থেকে হয়নি। যিনি ওই শিক্ষার্থীর নিবন্ধন  আমার বিদ্যালয়ে হওয়ার কথা বলেছেন তা সত্য নয়।

গুলিশাখালী ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম মুঠোফোনে বলেন দু’টি বিদ্যালয়ে ওই শিক্ষার্থী নিবন্ধন করায় বোর্ডের অনলাইনে ফরম পূরণ হয়নি। কম্পিউটারে হ্যাঙ্গ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন ওই শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। অনলাইনে ছাড়াও বোর্ডে ফরম পূরণ করা যায় আপনী ওই ছাত্রীর টাকা নিয়ে ফরম পূরণ করলেন না কেন এমন প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারেনি।

আমতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা মুঠোফোনে বলেন প্রতিষ্ঠান প্রধানের এহেন কর্মকান্ডের জন্য শাস্তি  হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।