ফলোআপ বরগুনায় শিশু নির্যাতনকারী শিক্ষক কারাগারে

0

 

জয়দেব রায়, বরগুনা : শিশু শিক্ষার্থীকে পেটানো শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বাদলকে শনিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্ত্রী-সন্তানের মায়ায় শুক্রবার সন্ধ্যার আগে এ শিক্ষক থানায় গিয়ে নাটকীয়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ৯ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতন করেছে রোডপাড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বাদল। রক্ত জমাটবাধা ক্ষত নিয়ে শিশুটিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শনিবার বরিশালে নেয়া হবে বলে জানা গেছে। নির্যাতিত শিক্ষার্থীর নাম ইসরাত জাহান মালিহা। সে ক্যালিক্স একাডেমীর ৩য় শ্রেনীর ছাত্রী। শিশুটি জহিরুল ইসলাম বাদল পরিচালিত বিজয় বৃত্তি কোচিং সেন্টারে এক বছর ধরে কোচিং করছে। শিশুটির বাবা জামাল সিকদার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে মালিহা কোচিং সেন্টারে গিয়েছিলো। সেখানে তাদের অংক করতে দেয়া হয়। অংকটি না পারায় রাত আটটার দিকে মালিহাকে পশুর মতো পেটানো হয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীকে নির্মম নির্যাতন করায় শুক্রবার দুপুরে শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বাদলকে চাকরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার রাতেই বাদলকে ধরার জন্য পুলিশ তার বাসায় গিয়েছিলো। বাদল পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী-সন্তানকে থানায় ধরে নিয়ে আসা হয়। স্ত্রী-সন্তানকে কারাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নিলে সন্ধ্যার দিকে বাদল থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। অসুস্থ অবস্থায় মালিহা আজ স্কুলের পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছে। এদিকে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেলা প্রশাসক মীর জহুরুল ইসলাম শুক্রবার সকালে শিশুটির বাবা-মাকে ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। শনিবার সকালে পরীক্ষা দিতে যাবার আগে আরো একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছে, আহত শিশু ইসরাত জাহান মালিহা। নির্দয় শিক্ষক বাদল তাকে সন্তানের মতো দেখতে না পারলেও শিশুটি তার শিক্ষকের মুক্তির দাবীতে আকুতি-মিনতি জানিয়েছে। বাবা-মাকে সাথে নিয়েই শিশুটি তার পিতৃতুল্য শিক্ষককে থানার গারদে দেখতে গিয়েছিলো। সেখানে শিক্ষকের বন্দী দশা দেখে শিশুটি অঝোরে কেদেছে। শিক্ষককে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য তার বাবা-মায়ের কাছে করেছে আকুতি। কিন্তু আইনের মার-প্যাচে শিক্ষককে মুক্ত করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত শিক্ষককে কারাগারেই যেতে হয়েছে।