ফোক স¤্রাজ্ঞী মমতাজের গান শততম আতশবাজির মাধ্যমে শেষ হলো লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারীর শত বর্ষ পূর্তি উৎসব

2

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালী জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারীর শতবর্ষ পূর্তি উৎসব মমতাজের গান আর আতশবাজির মাধ্যমে দু’দিন ব্যাপি নানা ঝাঁকজমক পূর্ণ অনুষ্ঠান ও কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। বর্ণাঢ্য র‌্যালী, স্মৃতিচারন, বন্ধু আড্ডা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় অঙ্গন মুখরিত হয়ে উঠেছিল। রাতের বর্ণিল আলোক সজ্জায় সাগর পাড়ের জেলা পটুয়াখালী পরিনত হয়েছিল উৎসবের নগরীতে। এরকম ঝমকালো অনুষ্ঠান পটুয়াখালী বাসীর স্মৃতিতে চির স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

বৃহষ্পতিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় জাতীয় পতাকা, শত বেলুন, শান্তির প্রতীক পায়রা ও শতবর্ষ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শতবর্ষ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার, বিচারপতি এ এন এম বসির উল্লাহ ও জেলা প্রশাসক এ কে এম শাসিমুল হক ছিদ্দিকী। উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ কাজী আলমগীর, জেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম সদস্য সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. মোঃ সুলতান আহমেদ মৃধা, পৌর মেয়র ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. মোঃ তারিকুজ্জামান মনি, অত্র বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দ। উদ্বোধন শেষে বিদ্যালয় গেট থেকে  বেলা ১১ টায় আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ সহ বিভিন্ন ব্যাচের ছাত্ররা ব্যানার-ফেস্টুন ও শতবর্ষের টি-শার্ট পড়ে সু-সজ্জিত হয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অংশগ্রহণ করে। বর্ণাঢ্য এ শোভাযাত্রার সামনে ছিল তিনটি মনোরম সাজে সজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি ছিল। শাভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ের মাঠে এসে শেষ হয়। এছাড়া স্মৃতিচারন, লাঠিখেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত সহয়। বিকাল ৩ টায় শতবর্ষের ভবনের ভিত্তিপ্রস্থর এর ফলক উন্মোচন করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইমামুল হক। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, শতবর্ষের স্মারক পাঠ, গুনীজনদের সম্মাননা ও আলোচনা অনুষ্ঠান। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত থেকে বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইমামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. মোঃ শাহজাহান মিয়া,  জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকী, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক খান মোশারফ হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. নুরুল হক তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক কাজী আলমগীর, পৌর মেয়র ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. মোঃ তারিকুজ্জামান মনি,  সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ এ্যাড. মোঃ সুলতান আহমেদ মৃধা । এছাড়া বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেনসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। সভায় সভাপতিত্ব করেন শতবর্ষ উদ্্যাপন পরিষদের আহবায়ক এ্যাড. গোলাম ওহিদ চৌধুরী  (টেনু)। সন্ধ্যা ৭ টায় লেজার শো প্রদর্শিত হয়। এরপর রাত ৮টা থেকে ১ টা পর্যন্ত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন খ্যাতনামা শিল্পী এন্ড্রু কিশোর, বারী ছিদ্দিকী, চন্দনা মজুমদার ও চন্দা ইসলাম।

শুক্রবার সকাল ১০ টায় জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রাক্তন ছাত্রদের স্মৃতি চারন অুনষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া লাঠিখেলা, গুনিজন সম্মাননা , শতশত ফানুস উড়ানো,  বিভিন্ন ব্যাচ ওয়ারী বিভিন্ন আনন্দ উল্লাস কেককাটা, নৃত্যানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন ও স্থানীয় শিল্পীদের এবং  ফোক স¤্রাজ্ঞী মমতাজের মনমাতানো সঙ্গীত ও আতশবাজী ফুটানো এর মধ্য দিয়ে দু’দিন ব্যাপি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

শতবর্ষের মিলন মেলায় ১৯৪৬ থেকে শুরু করে সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখতির হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। শতবর্ষের এ দু’দিন ব্যাপি অনুষ্ঠানে পটুয়াখালীবাসী আনন্দে মেতে উঠেছিল। আয়োজকরা মনে করেন তাদের আয়োজন পটুয়াখালী বাসী চিরদিন মনে রাখবে।