ফ্রিজে জায়গা নেই মাটির নীচে ইলিশ!

0

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল ঃ নিষেধাজ্ঞার ১৩তম দিনেও পটুয়াখালীর বাউফলে মা ইলিশ হত্যা বন্ধ হয়নি। অরক্ষিত তেঁতুলিয়া নদী। নারাখালী, চরওয়াডেল, তালতলী, ধুলিয়া, রায়সাহেবের চর, বাদামতলী, মঠবাড়িয়া, মমিনপুর, চরবাসুদেবপাশা, নিমদী, বগীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দেদারসে চলছে মা ইলিশ হত্যা। অভিযানে আটকের উদ্দেশ্যে একদিকে নদীতে পেতে রাখা জাল টেনে তুলছেন প্রশাসনের লোকজন একইসময় অনতিদূরে জাল ফেলছেন জেলেরা। প্রভাবশালীদের যোগসাজসে শিকার করা ইলিশ মাছ নিয়ে চরের বিভিন্ন খালে আত্মগোপন করছেন অসাদু জেলে, পাইকার ও আড়ৎদার। খোদ পৌর শহরেও মোটসাইকেলেযোগে বাজারের ব্যাগভর্তি করে ঘুরে ঘুরে চলে মাছ বেচা-কেনা। সংরক্ষণ করছেন ফ্রিজে, বরফ দিয়ে নোঙর করা ট্রলারের খোন্দলে ও মাটির নীচে লবন দিয়ে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোজাম্মেল হক জানান, আজ বুধবার তেঁতুলিয়ায় ইলিশ শিকারের অপরাধে রুবেল, ইসমাইল, সোহাগ, এনামুল, নাসীর উদ্দিনসহ ১১ জেলেকে আটক করা হয়। এই ১১ জনের মধ্যে ৬জনকে ১৫ দিনের ও ৫জনকে ৭ দিনের করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। এর আগে মঙ্গলবার বিল্লাল খা, মহিরুল ব্যাপারী, সেলিম হাওলাদার, মিরাজা হাওলাদার, নাজমুল, মিলন, এলামুল ও বশির ব্যাপারী নামে আরো ৮জনকে ৭দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহি কর্র্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। এ ছাড়া অবরোধ চলাকালে এ পর্যন্ত আটক করা হয় দুই মন ইলিশ মাছসহ ২৭ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার মিটার জালসহ ৮টি মাছ ধরার ট্রলার। ইলিশ শিকারের অপরাধে ১৯ জন জেলেকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া হয়। ১৯জন জেলেকে অর্থদন্ড দিয়ে আদায় করা হয় ১লক্ষ ৪হাজার টাকা। এদিকে ইলিশের নিরাপদ প্রজননে মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার ১৩তম দিন আজ বুধবারেও তেঁতুলিয়া নদীতে বন্ধ হয়নি মা ইলিশ শিকার।

নদী পাড়ের ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়িতে ফ্রিজেও জায়গা হচ্ছেনা ইলিশ রাখার। অসময়ে অল্পদামে ইলিশ মাছ কিনে অনেকে সংরক্ষণ করছেন বরফ দিয়ে নোঙর করা ট্রলারের খোন্দলে ও লবন দিয়ে মাটির নীচে। অবরোধের ১৩তম দিনে আজ বুধবার নিমদী লঞ্চঘাট এলাকায় বড় সাইজের (্১কেজি ওজনের) এক হালি ইলিশ ১২শ’ থেকে ১৪শ’ টাকায়, ৫শ থেকে ৬শ গ্রামের সাইজের ৬শ’ টাকা ও জাটকা সাইজের ইলিশ প্রতি হালি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ‘আমাদের জনবল ও পরিবহন যথেষ্ট নয়। এরপরেও সাধ্যমতো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে