বরগুনায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চলছে তেঁতুল প্রক্রিয়াজাত করণ

3

pic-6জয়দেব রায়, বরগুনা : অম্ল মধুর তেঁতুল দেখলে কার না জীভে জল আসে। মন ও দেহের দরকারী ঔষধি গুণে ভরা এ তেঁতুল। পরিকল্পিত আবাদ না থাকলেও উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতে এখনও তেঁতুল গাছের দেখা মেলে। আচার-চটপটি ও সালাদ থেকে শুরু করে নানা রকমের মুখরোচক খাদ্য দ্রব্যে ব্যবহৃত হয় তেঁতুল। তেঁতুল হজমে উপকারী যা খাবারে স্বাদ এনে দেয়। ফলে সারা বছর জুড়ে তেঁতুলের চাহিদা থাকার কারনে তেঁতুল হয়ে উঠেছে অর্থকরী ফল। তেঁতুলের বাণিজ্যিক ব্যবহার থাকায় এর একটা বাজারজাত ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছে। তবে তেঁতুল সংগ্রহ থেকে শুরু করে সরবরাহ পর্যন্ত প্রক্রিয়াজাত করন চলে চরম অব্যবস্থাপনা ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায়।

বরগুনায় দীর্ঘদিন ধরে তেঁতুল সংরক্ষন করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এসব তেঁতুল চরম অপরিচ্ছন্ন নোংরা অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় সংক্ষরণ করে বাজারজাত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশংকা, এসব তেঁতুল খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহৃত হলে মানবদেহের জন্য নানা রোগের সৃষ্টি করতে পারে। তেঁতুল সংরক্ষণে অসচেতনতা ও সুষ্ঠু বাজার ব্যাপস্থাপনার অভাবে খাদ্যপ্রাণ তেঁতুল হয়ে উঠতে পারে ক্ষতিকর খাদ্য উপকরণ।

বরগুনার কয়েকজন তেঁতুল ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বরগুনা থেকে প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার মন তেঁতুল দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করা হয়। জানুয়ারী থেকে মার্চ মাসের মাঝামাঝি তেঁতুল সংগ্রহের মৌসুম। এসময় প্রত্যন্ত এলাকা থেকে পাইকাররা তেতুল কিনে বরগুনার সাহাপট্টি নিয়ে আসেন। পাইকারদের কাছ থেকে আড়তদাররা এসব তেঁতুল কিনে নেন। এরপর নারী ও শিশু শ্রমিক দিয়ে আশঁ ছাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে তিন থেকে চার দিন ধরে আড়তের সামনের জনবহুল খোলা সড়কের পাশে রোদে শুকানো হয়। রাস্তার ধূলা বালি আঠাযুক্ত তেঁতুলে খুব সহজে আটকে যায়। পরে প্লাষ্টিকের বস্তায় ভরে লঞ্চযোগে ঢাকার শ্যামবাজারে পাঠানো হয়। শ্যামবাজার থেকে এসব তেতুল বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য ও ভেষজ ঔষধ প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান কিনে নেয়।

বরগুনার সাহাপট্টি ও গালর্স স্কুল সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ইটের খোয়া বিছানো খোলা সড়কের দু’পাশে ছেঁড়া চটের ওপর তেতুল শুকানো হচ্ছে। কয়েকজন নারী ও শিশু শ্রমিক তেঁতুলের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত। আর ওই তেঁতুলের উপর দিয়ে কুকুর ও ভেড়া, বিভিন্ন পাখির নির্বিঘœ হাটা চলা। পাশেই নর্দমার ময়লার স্তুপ ও কাদাজল। শুকানো শেষ হওয়া তেঁতুল কিছু শ্রমিক পা দিয়ে মাড়িয়ে বস্তাবন্দি করছেন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এভাবেই খাদ্য প্রাণ তেঁতুল বস্তাবন্দী হয়ে মোকামে চালানের জন্য তৈরী হয়।

ফিরোজা বেগম নামে এক নারী শ্রমিক বলেন’ আমরা ত্রিশটাকা মন হিসেবে তেতুলের আঁশ বাছাইয়ের কাজ করি। ময়লা আবর্জনা নিজের চোখে দেখে বাচ্চাদের তিনি কখনো তেতুলের আচার কিনে দেননা বলে জানান।

বরগুনার সাহাপট্টির তেতুল ব্যাবসায়ী রমিজ হাওলাদার বলেন ‘ আমাদের তেতুল শুকানোর যায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে খোলা সড়কে তেতুল শুকানো হয়। রমিজের দাবী এসব তেতুল পরিচ্ছন্নভাবেই চালান করা হয়। সড়কে চট বিছিয়ে তেতুল শুকানো হলে ধুলো ও ময়লায় একাকার এসব তেতুল পরিচ্ছন্ন এমনটাই দাবী আরতের শ্রমিক গৌরাঙ্গ হাওলাদারের।

স্বপন সাহা বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সামনের রাস্তায় তেতুল শুকানো হয়। বারবার বুঝিয়ে বললেও ব্যবাসয়ীরা আমাদের কথায় কর্নপাত করছেননা। তেতুলের গন্ধে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সবাই অতিষ্ঠ। এসব তেতুল খাবারে ব্যবহৃত হলে পেটের পীড়াসহ পাকস্থলীর নানা রোগ হতে পারে।

বরগুনা ইটিভির সংবাদকর্মী জয়দেব রায় বলেন ‘ খোলা সড়কে শুকানো তেতুল খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার করা হয়। এসব তেতুল মিশ্রিত খাবার খেলে মানুষের নানা প্রকারের রোগ ব্যাধী হতে পারে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এ ব্যাপারে নজর দেয়া উচিৎ।

এব্যাপারে বরগুনা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমরা গতবছর এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তেতুল প্রক্রিয়াজাত করায় কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও তেতুল নষ্ট করেছি। তবে যখনই আমরা অভিযানে নামি ব্যবসায়ীরা এই তেতুল খাবার জন্য শুকানো হয়না বলে আমাদের কাছে দাবি করে। এটি বিল্ডিং এর কাজে ব্যহৃত হয়।

জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইকবাল তালুকদার বলে, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, সংরক্ষন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা আইন মানতে হবে। বরগুনার সাহাপট্টি এলাকার ব্যবসায়ীদের বেশ কয়েকবার আমি নিষেধ করেছি।