বরগুনায় গৃহবধূকে পৈশাচিক নির্যাতন

0

জয়দেব রায়, বরগুনা : বরগুনায় যৌতুকের দাবীতে স্বামী কতৃক নির্মম ও পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিলো তালা, আর শিকল দিয়ে। গভীর রাতে তালা খুলে পালাতে গিয়ে কয়েক কিলোমিটার দৌড়ে  খাল সাঁতরাতে গিয়ে মরার মতো পড়েছিলো। পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচিয়েছে।

প্রাণে রক্ষা পাওয়া এ গৃহবধূর নাম হাসি বেগম। তার বাবার বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার লেবুখালী গ্রামে। তার বাবার নাম মোসলেম আলী আকন। বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের নাসির হাওলাদারের সাথে ৪ বছর আগে তার বিয়ে হয়েছে। এটি হচ্ছে নাসিরের দ্বিতীয় বিয়ে। মোবাইলে নাসিরের সাথে হাসির প্রেমের সম্পর্ক হয়। তারপরে হাসিকে বিয়ে করে বাড়ি নিয়ে আসে। কয়েকমাস যাবার পরই যৌতুকের দাবীতে শুরু হয় নির্যাতন। কখনো ভালো, কখনো মন্দ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তাদের জীবন চলতে থাকে। এরই মধ্যে হাসি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। ছেলের বয়স মাত্র ৬ মাস। শুক্রবার দুপুর থেকে হাসির উপর চালানো হয়েছে কয়েক দফা নির্যাতন। স্বামী, সতীন ও সতীনের মেয়ে মিলে তাকে পদদলিত করে সারা শরীর থেতলে দিয়েছে। রাতে গলায় গামছা বেধে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে মারার চেষ্টা চালানো হয়েছে। এরপরে তালা ও শিকল দিয়ে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে। শুক্রবার দিনগত রাতে কৌশলে তালা খুলে হাসি বেগম ৩ কিলোমিটার পথ দৌড়েছে। শনিবার শীতের সকালে খাল সাঁতরাতে গিয়ে সে শক্তি হারিয়ে পড়েছিল। পানিতে ডুবে মরার আগে আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের গাবতলী গ্রামের কয়েকজন নারী-পুরুষ তাকে উদ্ধার করেছে। স্থানীয় মোতালেব চৌকিদারের বাড়ি নিয়ে তাকে আগুনে ছ্যাকা দিয়ে সুস্থ করা হয়। বরগুনা থানার পুলিশ শনিবার দুপুরে সেখান থেকে তাকে নিয়ে এসে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বরগুনা থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেপ্তার পরেনি।