বাউফলের কালাইয়া ইউপিতে নৌকা মার্কার প্রার্থী এগিয়ে

1

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাউফলের কালাইয়া ইউনিয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থী এসএম ফয়সাল আহমেদ জনসমর্থনের দিক দিয়ে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানে আওয়ামী লীগের একজন বিদ্রোহী ও ধানের শীষের একক প্রার্থী থাকলেও প্রচারনা ও জনসমর্থনে তারা অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন। ফলে এ ইউনিয়নে মেম্বর পদের নির্বাচন ব্যতিত চেয়ারম্যান পদের প্রতিদ্বন্দিতা একতরফা ভাবেই হবে বলে বলে স্থানীয় ভোটারগণ ধারণা করছেন।

উল্লেখ্য, বাউফলের ১০ নং কালাইয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা মার্কার প্রার্থী এসএম ফয়সাল আহমেদ, ধানের শীষের মোহম্মদ নুর হোসেন খান এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে কালাইয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. রমিজ উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এদের মধ্যে এসএম ফয়সাল আহমেদ ২০০৩ সালে এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে খ্যাত বিএনপির সমর্থক মরহুম হাজী আ: হালিম  এবং ২০১১ সালে অপর এক ধনাঢ্য ব্যাক্তি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মরহুম হাজী আ. আউয়ালকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০০৩ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এলাকার কিছু কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় তাকে একটি মামলায় জড়ালে কিছু দিনের জন্য তিনি বরখাস্ত হন। এরপর উচ্চ আদালতের নির্দেশে আবারো চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান। এসএম ফয়সাল আহমেদ আওয়ামী পরিবারের সন্তান এবং জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজের ভাতিজা। বর্তমানে বাউফল উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উদীয়মান তরুন হিসেবে ২০০৩ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকাবাসির কাছে বেশ সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এলাকার সালিশ-ব্যবস্থা নিস্পত্তিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়ায় বেসরকারি সংস্থা আরডিএস এবং সামাজিক সংগঠন কালাইয়া লক্ষ্মী নারয়ণ মন্দির কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননাও পেয়েছেন।

এবছর তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার মূল বক্তব্য হচ্ছে “মাদক মুক্ত, ইভটিজিং মুক্ত, বাল্য বিবাহ মুক্ত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন মুক্ত কালাইয়া ইউনিয়ন গঠন করা”। কালাইয়া এলাকার সাবেক মেম্বর নূরু মোল্লা জানান, একজন যুব চেয়ারম্যান হিসেবে এসএম ফয়সাল আহমেদের সাথে কাজ করে তৃপ্তি পেয়েছি। তাঁর দুরদর্শীতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা অনেক গভীর। কালাইয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড ঘুরে বিভিন্ন পর্যায়ের ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, অন্যান্য প্রার্থীদের থেকে ফয়সাল আহমেদ অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। কোন অপপ্রচারই কাজে আসবেনা।

কালাইয়া ইউনিয়নের নৌকা মার্কার প্রার্থী এসএম ফয়সাল আহমেদ বলেন, আমি জনগণের সেবক। সুখে-দু:খে তাদের সাথে আছি এবং থাকবো। প্রাণপ্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন বর্তমান সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের গৃহীত জনবান্ধব কর্মসূচীগুলো জনগণকে নিয়ে বাস্তবায়ন করছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব। ২০০৭ সালের ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। ভোটারদের ওপর তাদের আস্থা না থাকায় তারা এ ষড়যন্ত্র করছেন। ইনশাল্লাহ, ২২ মার্চ কালাইয়ার জনগণ উপযুক্ত জবাবই দেবেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রমিজ উদ্দিন (আওয়ামী লাীগের বিদ্রোহী) ঢাকায় অবস্থান করায় তাঁর মতামত পাওয়া যায়নি। অপরদিকে তৃণমূলের সাথে আলোচনা না করে এবং দল না গুছিয়ে নির্বাচনী মাঠে আসায় বিএনপির প্রার্থীর অবস্থা নাজুক। এলাকায় না থাকা এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে সম্পর্ক গড়ে না ওঠারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ  ক্ষেত্রে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচন শুধু দলীয় পরিচয়ই বহন করবে বলে ভোটাররা অভিমত প্রকাশ করেছেন।