বাউফলের জনপদ উৎত্তপ্ত ॥ মিশন-আ’লীগ নিশ্চি‎হ্ন করা

0

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাউফলের জনপদ উৎত্তপ্ত হচ্ছে। বিএনপি-জামাতের অদৃশ্য কুশীলবদের প্ররোচনায় এখন প্রতিদিনই বাউফলের বিভিন্ন জনপদে চলছে স্ব-গোত্রীয়দের নিধন।চলছে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ ও ভাংচুরের মত ধংসযজ্ঞ। স্থানীয় পর্যায়ের এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রটি জোটবদ্ধ হয়ে বাউফলে আওয়ামী লীগকে নিশ্চি‎হ্ন করার মিশনে নেমেছেন বলে সাধারন মানুষ মনে করছেন।

তথ্য মতে, দেশে প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতার সুযোগ দেয়া রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। উপজেলা আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করে কেন্দ্রে পাঠালে সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক স্বাক্ষরিত নৌকা প্রতীক প্রাপ্তদের তালিকা পাঠানো হয়। অপরদিকে বাউফল পৌরসভার মেয়র ও তার সমর্থকরা কেন্দ্রের কাছে আরেকটি তালিকা পাঠালে সেটা অনুমোদন হয়নি। কিন্তু ওই তালিকার প্রার্থীরা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রীয় থেকে এখন নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। এখনো পর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কিংবা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বাউফল আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে খ্যাত। এ কারণে বিএনপি-জামাত জোট এ নির্বাচনে সুবিধা করতে পারবেন না বুঝে অদৃশ্যভাবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের পক্ষাবলম্বন করে প্রতিশোধের মহরায় মেতে উঠেছে। তাদের মিশন প্রতিশোধের বিষ ক্রীয়ায় আওয়ামী লীগকে নিশ্চি‎হ্ন করা। সাম্প্রতিক সময়ে বাউফলে ঘটে যাওয়া খুন, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আওয়ামী লীগ অফিস সহ বঙ্গবন্ধ ও শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর, উপজেলা চেয়ারম্যান লাঞ্চিত হওয়া, পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন ইত্যাদি ঘটনায় এরই প্রমাণ মিললো।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, বাউফল থানার ওসি মাসুদুজ্জামান বিএনপি পরিবারের সন্তান। তার ভাই বরগুনা জেলা ছাত্র দলের কমিটিতে গুরুত্তপূর্ণ পদের দায়িত্ব পালন করছেন। বাউফলে ওসি মাসুদুজ্জামান কৌশলে বিএনপি-জামাতকেই সমর্থন করছেন। বাউফলের অস্থিরতা সম্পর্কে জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে বাউফলের আওয়ামী লীগকে একোচ্ছত্র করে রেখেছি। দলের লেবাস লাগানো কিছু কুচক্রী মহল আওয়ামী লীগের এ শক্ত অবস্থানকে অন্যপাত্রে দান করতে চায়। স্থানীয় নির্বাচনসহ জাতীয় নির্বাচনেও ওই মহলটি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শান্ত বাউফলকে অশান্ত করতে তৎপর থাকে। কিন্তু বাউফলের জনগণ আওয়ামী লীগকে ভালবাসে এবং আ স ম ফিরোজকেও হাড়ে হাড়ে চিনে। একারণে কোন অপতৎপরতাই  নৌকার বিজয়কে ছিনিয়ে নিতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।

চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি  বলেন, বিদ্রোহীদের মধ্যে দু’একজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে পূর্বে সংশ্লিষ্ট ছিল। কিন্তু অনৈতিক সুযোগ নেয়ার আশায় দলছুট হয়ে গেছে। বাকিরা আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত নয়। আর বাউফলের জনগণই এদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি পুলিশ প্রশাসন সম্পর্কে বলেন, বাউফলের জনগণ বাউফল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক অনেক অভিযোগ আমি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে।  কোন দলের সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন কিছু  ভোটার বলেন, বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে এ বছর বাউফলের সাধারন মানুষ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশি অস্থিরতা দেখছেন। আসন্ন নির্বাচনে বাউফলে আরো সহিংসতা ঘটাতে পারে বলেও তারা আশংকা প্রকাশ করেছেন।