বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবজি ও ডাকাতি অসহায় জেলেরা নদীতে যেতে পারছেনা

3

 

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীর চর ভেদুরিয়া, চর মমিনপুর, মঠবাড়িয়া ও চর রায় সাহেব পয়েন্টে ডাকাতের কাছে অসহায় হয়ে পরেছে জেলেরা। স্থানীয় কয়েকজন সন্ত্রাসিদের সহায়তায় ভোলা জেলার ২ টি ডাকাতদলের নির্ধারিত মাসিক কিংবা সাপ্তাহিক চাঁদা দিতে না পারলে জেলেদের ওপর চলে অমানবিক নির্যাতন, লুট করে নেয়া হয় মাছ, জাল ও নৌকা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের কাছে বহুবার আবেদন নিবেদন করেও কোন ফল পাচ্ছেনা মহাজন, এনজিও ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জাল-সাবার গড়ে তোলা গরিব জেলেরা। এ ধরণের চিত্র এখন নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। এক কথায় বাউফলের তেঁতুলিয়া নদী এখন ডাকাতদের অভয়ারণ্য।

সরেজমিন বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়নের মঠবাড়িয়া, কেশবপুরের মমিনপুর, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায় সাহেব এবং ভোলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার চর ভেদুরিয়ার আংশিক এলাকায় জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে নির্মম নির্যাতন ও লুটপাটের করুন কাহিনী। কেশবপুরের জেলে হাসান রাড়ি, সোহাগ গাজী, মাহাবুব গাজী, নবী আলী, জুয়েল ভূঁইয়া, এনায়েত ফড়াজি, আলম, দুলাল আকন, সবুজ সিকদার, ফারুক সিকদার, মানিক খান ও হিরন ফড়াজি জানান, তেঁতুলিয়ার ওই পয়েন্টে বাউফলের কয়েক শত জেলে মাছ শিকার করেন। স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসিদের সহযোগিতায় পাশর্^বর্তী ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার চর ভেদুরিয়া ও গঙ্গাপুর থেকে সসস্ত্র ডাকাতদল বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীর উল্লেখিত পয়েন্টে এসে নির্ধারিত চাঁদা মাসে ৪ হাজার টাকা আদায় করে নিচ্ছে। যারা চাঁদা দেন তাদেরকে একটি পতাকা দেয়া হয়। নৌকা বা ট্রলারে ওই পতাকা উড়িয়ে মাছ শিকারের জন্য নদীতে জাল ফেলতে হবে এমনই নির্দেশ দেন ডাকাত দল। যারা চাঁদা না দিয়ে নদীতে জাল ফেলেন তাদের ওপর চলে নারকীয় তান্ডব এবং অমানবিক অত্যাচার। লুট করে নেয়া হয় মাছ, জাল ও নৌকা। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে হাত-পা বেধে তাদেরকে নদীতে ফেলে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। ডাকাতের তান্ডবে ইলিশের এ ভড়া মৌসুমেও বাউফলের জেলেরা ডাকাতের ভয়ে নদীতে জাল ফেলতে পারছেনা। জেলেরা আরো জানান, ডাকাত দল ডাকাতি কিংবা লুট তরাজ করেই অল্প সময়ের মধ্যে ভোলার চর ভেদুরিয়া এবং গঙ্গাপুরের দিকে চলে যায়। জেলেদের ভাষ্যমতে, ভোলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুরের সিরাজ বাহিনীর নেতা সেরাজ মারা যাওয়ার পর তার সেকেন্ড ইন কমান্ড মহসিন হাওলাদারের নেতৃত্বে জাকির ও হাসান তেঁতুলিয়া নদীতে দুটি ডাকাত দল পরিচালনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে বহুবার থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করলেও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা। তেঁতুলিয়া নদীকে নিরাপদ রাখার জন্য বাউফলের কালাইয়া বন্দরে একটি নৌ পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও সরঞ্জমাদির অভাব দেখিয়ে তারা ঠুটো জগন্নাথ হয়ে বসে রয়েছেন। কেশবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন খার লাভলু জানান, স্থানীয় এমপি এবং জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ.স.ম. ফিরোজের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃংঙ্খলা বিষয়ক সভায় বিষয়টি উপস্থাপণ করা হয়েছে।  তেঁতুলিয়ায় মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জীবন মাল রক্ষায় চীফ হুইপ তাৎক্ষণিক পুলিশি টহল বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন এবং স্থায়ীভাবে নৌ বাহিনীর একটি টীমকে দেয়ার আশ^াস দেন। কিন্তু প্রশাসন উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপই নিচ্ছেননা। চেয়ারম্যান আরো বলেন, তার নেতৃত্বে একটি টহল দল গঠন করে নদীতে ডাকাত প্রতিরোধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এরসাথে প্রশাসন সহযোগিতা করলে ডাকাত নির্মূল করা সম্ভব হবে।