বাউফলের নওমালা ইউনিয়নে পূণরায় নির্বাচন দাবী

1

ডেক্স রির্পোটঃ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নে পূণরায় নির্বাচনের দাবী উঠেছে। প্রথম ধাপে গত ২২ মার্চ বাউফলের ১১টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে  চেয়ারম্যান পদে ৯টিতে নৌকা মার্কার বিজয় নিশ্চিত হয়। ২টির মধ্যে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং নওমালা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করে। নওমালা ইউনিয়নে কেন্দ্র দখল, নৌকা মার্কার কর্মী সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে ওই ইউনিয়নে পূনরায় নির্বাচনের দাবী উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর থেকে নওমালা ইউনিয়নে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহজাদা হাওলাদার। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও আওয়ামীলীগ কর্মীদের বাড়ি বাড়ি হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে তার কর্মীরা। নওমালা আব্দুর রশিদ খান ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ আবদুল মালেক বলেন, কেবল আওয়ামীলীগ  নেতাকর্মীরা নয়, সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও  ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাদা হাওলাদারের সমর্থকরা। দুপুরের পরই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীরা ২ নং কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেয়া শুরু করে।  বেলা ১১ টায় ৬ নং কেন্দ্রে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে ঘোড়া মার্কার কর্মীরা। এসময় ভোটাররা  কেন্দ্র থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে যান। ২২ মার্চ নওমালা ইউনিয়নের প্রতিটি কেন্দ্র এভাবে দখল করে জাল ভোট প্রদান করলেও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ছিল নিরব দর্শকের ভূমিকায়। শুধু তাই নয়,বাউফল থানা পুলিশের সহায়তায় প্রতিটি কেন্দ্রেই বিএনপি-জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মীকে ঘোড়া মার্কার পক্ষে কাজ করতে দেখা যায়। যদিও এসব কিছুর নেপথ্যে সরকারের এক প্রভাবশালী আমলা ও কয়েকজন কালো টাকার মালিক জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নওমালা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রত্তন আলী মৃধা জানান, নির্বাচনের আগে আমার বাড়িতে মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কর্মীরা। কেবল তাই নয়, নির্বাচনের আগে ও পরে নওমালা ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায় ঘোড়া মার্কা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহজাদা হাওলাদারের বাহিনীরা। বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের ব্যবহার করে সহিংসতার এই নির্বাচন নওমালার মানুষ মেনে নেবে না বলে দাবী করেন নওমালা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রত্তন আলী মৃধা। রবিবার পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক খান মোশারেফ হোসেন এর নেতৃত্বে একটি টিম নওমালা ইউনিয়নে সহিংসতার চিত্র পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি প্রতিটি ঘটনার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন। এর আগে গত ২৪ মার্চ নওমালা ইউনিয়নে সন্ত্রাসী হামলার শিকার ক্ষতিগ্রস্থ ঘরবাড়ি পরিদর্শনে যান জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি। চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়াবহ বর্বরতার চিত্র দেখে হতবাক হয়ে যান। এ সময় চিফ হুইপের কাছে সহিংস ঘটনার বর্ননা করতে গিয়ে অনেকে তখন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ভাংড়া গ্রামের কাঞ্চন আলী ফকির বলেন, নির্বাচনের আগের দিন তার বাড়ির ১০টি ঘরে তান্ডবলীলা চালায় শাহাজাদা হাওলাদারের সন্ত্রাসীরা।  এদিকে নির্বাচনের পরও আতংক পিছু ছাড়ছে না নওমালা ইউনিয়নের সাধারন মানুষের। শাহজাদা হাওলাদার বাহিনীর হুমকি ধামকির মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী সরকারের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।