বাউফলে অনিয়মের তদন্তে এসে ভূড়িভোজ

7

 

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৩০ ব্রিজ নির্মাণে অনিয়মের তদন্ত করতে এসে ভূড়িভোজের এলাহিকান্ডে শরিক হলেন তদন্ত টিম। তাদের জন্য গরু, খাসি, মুরগির মাংস ছাড়াও ইলিশ, রুই, পাঙ্গাস, বাইলা, পোয়া, আইড়,কোরল ও গলদা চিংড়িসহ ১৯ রকমের খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ডাল, বিভিন্ন ধরণের সবজি, ফেরনি, মিস্টি ও জর্দাও ছিল। ওই ভিআইপিদের রান্না করে খাওয়ানোর জন্য ভোলা জেলা থেকে বাবুর্চী আনা হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কালভার্ট ও সেতু বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী  মো. জহিরুল ইসলামের বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়নের বাজেমহল গ্রামের বাড়িতে গতকাল বুধবার দুপুরে ভূড়িভোজের ওই এলাহি কান্ডের আয়োজন করা হয়। জানা গেছে, অতিথি ও ঠিকাদারসহ প্রায় শতাধিক লোকের এ ভূড়িভোজে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করার দায়িত্বে ছিলেন ওই মন্ত্রণালয়ের কালভার্ট ও সেতু বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী  মো. জহিরুল ইসলামের ভাই শামিম মুন্সি।

সূত্র জানায়, বাউফলে ৩০ ব্রিজ নির্মাণে ব্যপক অনিয়ম শীর্ষক খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে গতকাল বুধবার সকালে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা মন্ত্রণালয় থেকে সেতু ও কালভার্ট বিভাগের উপ-প্রকল্প পরিচালক সাখাওয়াৎ হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম বাউফলে আসেন। তদন্ত টীমের সাথে ৫টি জীপ গাড়ি ছিল। এসব গাড়িতে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ২২ জন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ছিলেন। দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে তদন্ত টীমের প্রধান সাখাওয়াৎ হোসেনের সাথে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক অনিয়ম সম্পর্কে কথা বললে তিনি জানান, ৪টি ব্রিজের নির্মাণ কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। তবে কোন কোন ব্রিজ তিনি পরিদর্শন করেছেন সেটা জানাতে অপরগতা প্রকাশ করেন। তদন্তে কোন অনিয়ম পেয়েছেন কী না জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে স্থান ত্যাগ করে ভূড়িভোজে যোগ দিতে গাড়িবহর নিয়ে কেশবপুরের বাজেমহল গ্রামে ওই দফতরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামের বাড়িতে চলে যান। এসময় স্থানীয় সাংবাদিকরাও তাদের পিছু নেন। দুপুর আড়াইটার দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পাকা ও কাঁচা মাটির পথ পেড়িয়ে তারা ওই বাড়িতে পৌঁছান। সরেজমিন দেখা গেছে, আগত অতিথিদের মধ্যে বিভিন্ন উপজেলা পিআইও, ঠিকাদার ও অন্যান্য অতিথিদির বাড়ির সামনে বৈঠকখানায় এবং তদন্ত কমিটির প্রধানসহ তার সঙ্গীদের ওই উপ বিভাগীয় প্রকৌশলীর সুরম্য বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে ভূড়িভোজ করানো হয়। ভোলা থেকে রান্নার জন্য বাবুর্চী আনা হয়েছে। বাবুর্চী অক্তার হোসেন জানান, গরু, খাসি,মুরগি, ইলিশ, রুই, পাঙ্গাস, বাইলা, পোয়া, আইড়, কোরল ও গলদা চিংড়িসহ ১৯ রকমের খাবার তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি ইলিশ মাছ কেনা হয় ৪০ হাজার টাকায়, ২ মন কোরাল মাছ কেনা হয় ৮০ হাজার টাকায়। সব মিলিয়ে ব্যয় করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। আর রান্নার জন্য তাকে দেয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট দফতরের একটি সূত্র জানায়, ব্রিজের ঠিকাদারদের থেকে খরচের টাকা নেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, তদন্ত কমিটিকে ম্যানেজ করতেও মোটা অংকের উৎকোচ দেয়া হয়েছে। এব্যপারে পুনরায় তদন্ত টীমের প্রধান  সাখাওয়াৎ হোসেনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।