বাউফলে অবাধে অতিথি পাখি নিধন

1

10বাউফল প্রতিনিধিঃ চলতি শীত মৌসুমে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার গ্রামাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন বিলে অবাধে চলছে অতিথি পাখি নিধন। অতিথি পাখি ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও একশ্রেণীর পাখি শিকারীরা নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কর্মকান্ড। ফলে বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ধনে সহায়ক এ রঙ-বেরঙের পাখির ক্রমবিকাশ। জানা গেছে, শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে এসব রঙ-বেরঙের অতিথি পাখি সুদূর সাইবেরিয়া থেকে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করে। জীবনের নিরাপত্তা ও খাদ্য সংস্থানের কারণে অতিথি পাখিরা বেছে নেয় দুর্গম বিলের অভয়ারণ্য গুলো। কিন্তু পেশাজীবী ও সৌখিন পাখি শিকারীরা শীত মৌসুমের আগে-ভাগেই পাখি ধরার বিভিন্ন প্রকার ফাঁদ ও জাল তৈরি করে থাকে। সুযোগ সন্ধানী এসব শিকারী রাতের আঁধারে বিভিন্ন প্রকার জাল ও ফাঁদ নিয়ে হানা দিচ্ছে উপজেলার চরাঞ্চল গুলোতে। রাত হলেই শুরু হয় পাখি শিকারের প্রতিযোগিতা। শিকারীরা কচুরিপানার পাতা দিয়ে বাঁশি বানিয়ে পাখির বিভিন্ন সুর নকল করে নৌকায় বসে ডাকা শুরু করে। অতিথি পাখি ওই ডাক শুনে সঙ্গীদের খুঁজে নিচে নামতে গেলেই আটকে যায় ফাঁদে। গত পনের দিনে এসব স্থান থেকে ডুংকোর, সরাইল, বালিহাঁস সহ নানা প্রজাতির পাখি ধরা পড়ছে শিকারীদের ফাঁদে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালাইয়া বাজারের কয়েক পাখি শিকারী ও বিক্রেতা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ৩০ কেজি নাইলন সুতার ফাঁদ পেতেছে তারা। পাখির আগমন এ বছর ভালো তাই প্রতি রাতে ২০-২৫টি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি তাদের পাতা ফাঁদে ধরা পড়ছে, যার মূল্য ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। তারা জানায়, চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ শীতকালের ৩মাস পাখি শিকার করে থাকে। এ বছর পাখির দাম অনেক বেশি, তাই অল্প পাখিতে অনেক টাকা পাওয়া যাচ্ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ধনে সহায়ক ওই সব রঙ-বেরঙের পাখি ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে জীবিকা ধারণ করে থাকে, তাই তাদের নিরাপদে বিচরণ করতে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা সারোয়ার জামান। তার মতে, পুলিশ প্রশাসন ও এলাকাবাসী যদি পাখি নিধন ও বিক্রি বন্ধের ব্যাপারে সোচ্চার হয় তাহলে অনেকাংশে অতিথি পাখি শিকার থেকে মুক্তি পাবে। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় থাকবে।