বাউফলে উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ও  সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা

0

 

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায়  সে নিজে বাদি হয়ে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে গতকাল রোববার পটুয়াখালী দ্রুত বিচার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।  আদালতের  জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল হাকিম এএসএম তারিক শামস ৩০ মার্চের মধ্যে মামলাটির তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পটুয়াখালীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিকেশনকে (পিবিআই)কে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত ও মামলা সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষে আইনজীবি ছিলেন  মো. আবুল কাশেম মিয়া।

উল্লেখ্য, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গত ৯ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১১ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্রার্থীদের নিয়ে সভা ডাকা হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল মাহামুদ জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক এ কে এম শামীমুল হক ছিদ্দিকী ও পুলিশ সুপার সৈয়দ মোসফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় ৮ মার্চ রাতে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে নৌকা মার্কা প্রার্থীর ভাই খুন হওয়া নিয়ে বক্তব্য চলছিল। বক্তব্য নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও বগা ইউনিয়নের নৌকা মার্কার প্রার্থী আবদুল মোতালেব হাওলাদার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম ফারুকের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যানের বচসা হয় এবং এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা হয়। ঘটনার পর উপজেলা চেয়ারম্যানকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান রোববার বাদি হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম ফারুকসহ ১৫ জনকে আসামি করে পটুয়াখালী দ্রুত বিচার আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত ৩০ মার্চের মধ্যে মামলাটির তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পটুয়াখালীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিকেশনকে (পিবিআই)কে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদি উপজেলা চেয়ারম্যান জানান, ৯ মার্চ উপজেলা আইন-শৃংখলা বিষয়ক সভায় আবুদল মোতালেব হাওলাদার ও ইব্রাহীম ফারুকসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমিসহ আরো এক চেয়ারম্যান এবং এক চেয়ারম্যান প্রার্থী আহত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম ফারুক বলেন, একটি খুনের ঘটনা ভীন্নখাতে প্রবাহিত করতে ওই সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান মিথ্যা বক্তব্য দেন। এর ফলে মিলনায়তনের বাহিরে থাকা কয়েকশত জনতা বিক্ষুব্ধ হয়। তাদেরকে নিবৃত্ত করতে আমরা বাহিরে চলে আসি। আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এবং আমি ওই ঘটনার কিছুই জানিনা।