বাউফলে উপজেলা চেয়ারম্যান লাঞ্চিত

5

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের উপস্থিতে বাউফলে অনুষ্ঠিত আইন-শৃংখলা বিষয়ক সভায় আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের নৌকা মার্কার প্রার্থীর ভাইয়ের খুন হওয়া নিয়ে বক্তব্যের জের ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও নওমালা ইউনিয়নের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী জনতার হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ জনতার হাত থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। এরপর থকে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বাউফল উপজেলা আইন-শৃংখলা বিষয়ক সভায় যোগ দিতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক একেএম শামিমুল হক সিদ্দিকী এবং জেলা পুলিশ সুপারসৈয়দ মোসফিকুর রহমান বাউফলে আসেন। এদিকে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের নৌকা মার্কার প্রার্থী সামসুল হক ফকিরের খালাতো ভাই ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আশ্রাফ আলী ফকিরকে খুন করার প্রতিবাদে এবং থানার ওসি মাসুদুজ্জামানকে অপসারনের দাবিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। এসময় বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে বেলা তিনটার দিকে উপজেলা আইন-শৃংখলা বিষয়ক সভা শুরু হয়। ওই সভায় আশ্রাফ আলী ফকিরের খুন হওয়া নিয়ে ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য আলেয়া বেগম নিজের ক্রুটির জন্য আশ্রাফ খুন হয়েছেন এমন বিতর্কিত বক্তব্য দিলে সভায় উপস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। তার ওই প্রতিবাদে অন্যান্য চেয়ারম্যানগন (একজন বাদে) একমত পোষন করেন। এসময় উপজেলা   চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান এবং নওমালা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) শাহজাদা হাওলাদার আলেয়া বেগমের বক্তব্যকে সমর্থন জানালে সভায় হৈচৈ শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান ও শাহজাদা হাওলাদার সভাকক্ষের বাহিরে আসার চেষ্টা করলে সভা কক্ষের বাহিরে থাকা উত্তেজিত জনতা তাদেরকে শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে নিয়ে যান। এরপর সভা পন্ড হয়ে যায়। ঘটনার পর পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, উপজেলা চেয়ারম্যান ও শাহজাদা হাওলাদারকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেয়া হয়েছে।