বাউফলে এক পরিবার তিন মাস ধরে এক ঘরে

2

অতুল পাল,বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফলের দাশপাড়া ইউপির খেজুরবাড়িয়া গ্রামের সংখ্যালঘু শুরেন কীর্তনীয়ার পরিবারকে প্রায় তিন মাস ধরে এক ঘরে করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।  কোন ধরণের সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ওই পরিবারটিকে যোগ দিতে দেয়া হচ্ছে না। বাড়িতে কোন পুরোহিত কিংবা ঠাকুর এনে ধর্মীয় কর্মকান্ডও করতে দেয়া হচ্ছে না। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সহযোগিতা চেয়ে না পেয়ে ওই পরিবারিটি এখন মানবিক ও মানষিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দেশ ত্যাগ এমনকি আত্মহত্যা করার কথাও ভাবছেন।

বাউফল সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, শুরেন কীর্তনীয়া (৬৫) জরাজীর্ণ একটি চৌ-চালা ঘরে বসবাস করছেন। পেশায় তিনি একজন কাঠ মিস্ত্রী।  বাড়িতে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। পানি ভেঙ্গে তাদের যাতায়ত করতে হয়। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ষাটোর্ধ শুরেন কীর্তনীয়া জানান, তার এক মেয়ে (২৮) অন্য সম্প্রদায়ের এক যুবকের সাথে সম্পর্ক করে অনাকাক্ষিতভাবে সন্তান জন্ম হয়। এরপর থেকেই তাদের পরিবারের উপর সামাজিক ও ধর্মীয় অবিচার শুরু হয়। নিজ সম্প্রদায়ের প্রতিবেশীরা তাদেরকে এড়িয়ে চলতে থাকে। তিন মাস আগে তার স্ত্রী মনিতারা (৬০) তার বড় ছেলে  অমল কীর্তনীয়ার মেয়ে বৈশাখী (৭)  অন্তরা (৬) ও নাতি স্বপ্নাকে (১০) নিয়ে একই গ্রামের দক্ষিণা রঞ্জন শীলের বাড়িতে এক ধমীর্য় অনুষ্ঠানে  যোগ দিতে গেলে খাবার পরিবেশনের সময় স্থানীয় প্রভাবশালী দিলীপ শীল, বিনয় ঘরামীসহ আরো কয়েক তাদেরকে বেহায়া ও নির্লজ্জ বলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। ওই অনুষ্ঠান শেষে দিলীপ শীল ওই গ্রামে বসবাসকারী ২০-২৫ টি হিন্দু পরিবারকে ডেকে এনে তাদেরকে শুরেন কীর্তনীয়ার পরিবারের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ ছিন্ন করার নির্দেশ দেন। এরপর থেকে আর ওই গ্রামের কোন হিন্দুরা তাদের বাড়িতে যাতায়ত করেননা। এমনকি কোন সামাজিক কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাদেরকে নিমন্ত্রণ জানানো হয় না। তাদের চেহারা দেখলেও পাপ হবে এমন ফতোয়া দিয়েছেন ওই প্রভাবশালীরা। শুরেন কীর্তনীয়ার ছোট ছেলে কমল কীর্তনীয়া জানান, তার বোনের অপরাধের কারণে তাদেরকে  তিন মাস ধরে এক ঘরে করে রাখা হয়েছে। বাড়ির সামনের রাস্তাটি মেরামত করে দেয়া হচ্ছেনা। তাদের বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে বিদ্যুতের খুঁটি থাকলেও ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বাধা দেয়া হচ্ছে। এক কথায় পরিবারের ৮ সদস্য নিয়ে নিজ জন্মভূমিতে শুরেন কীর্তনীয়া এখন পরবাসি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ বাউফলের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেও কোন ধরণের প্রতিকার পাননি। কমল কীর্তনীয়া আক্ষেপ করে বলেন, চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ভোটের রাজনীতি করেন। তাদের কাছে গেলে বলেন, তোদের জন্য  আমরা  অন্যসব হিন্দুদের বিরাগভাজন হতে পারবোনা। তোরা যে রকম আছিস সেরকমই থাক। এ অবস্থায় ওই সংখ্যালঘু পরিবারটি মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। বৃদ্ধ শুরেন কীর্তনীয়া বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে বাধ্য হয়ে দেশত্যাগ করতে হবে, আর না হয় আত্মহত্যা করতে হবে।