বাউফলে কর্মস্থল হলেও ৪ শিক্ষক অবস্থান করছেন বিদেশে !

2

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালী বাউফলের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই বছরের পর বছর তাদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত  থেকে বিদেশে অবস্থান করছেন। শিক্ষক নেতা ও অফিসকে ম্যানেজ করে ওই শিক্ষকরা দীর্ঘদিন পর্যন্ত এধরণের সুযোগ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরফলে ওইসব স্কুলের পাঠদান চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আসমা বেগম ২ সন্তান নিয়ে প্রায় ৩ বছর ধরে তার স্বামীর কর্মস্থল সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। কালাইয়া ইউনিয়নের উত্তর কর্পূরকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ফৌজিয়া আফরোজ এবং মো. আবদুল সাদিক প্রায় ৫ বছর ধরে তাদের পরিবারের সাথে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। অপরদিকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জোবায়দা বেগম স্বামী-সন্তান নিয়ে ১ বছর ধরে ঢাকায় অবস্থা করছেন। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট অফিসকে ম্যানেজ করে ওই ৪ শিক্ষক বছরের পর বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন। এ ব্যাপারে বাউফলের শিক্ষা অফিসার রঙ্গলাল রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই ওই ৪ শিক্ষকের  স্থায়ী ঠিকানায়  শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তারা কোন জবাব দেনননি। তবে তাদের বেতনভাতা উত্তোলন স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শেরেকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকদের সহায়তা করার কোন প্রশ্নই ওঠে না। বরং আমরা ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দীর্ঘদিন পর্যন্ত দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোন ফল হচ্ছেনা। তিনি আরো জানান, নাজিরপুর ইউনিয়নের রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আসমা বেগম এর আগেও একবার বিদেশে গিয়ে অনেকদিন অবস্থান করে ফিরে এসে বেতনভাতা নিয়ে আবার চলে গেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। একারণে অন্যান্যরাও সুযোগ পেয়ে গেছেন। এবিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা মোহম্মদ বখতিয়ার রহমান জানান, রোববার থেকে আমি নিজে ঘটনা গুলোকে সরেজমিন তদন্ত করতে শুরু করেছি। শীঘ্রই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্ধতন কর্মৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেয়া হবে।