বাউফলে কৃষকদের মানব বন্ধন

9

pic-1কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের বটকাজল গ্রামে স্লুইচগেট নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্বজন প্রীতির প্রতিবাদে সোমবার সকালে মানব বন্ধন করেছে শতাধিক কৃষক। কৃষকদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে ওই স্লুইচ গেট গুলো পরিচালনার জন্য দায়িত্ব দেওয়ায় কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে ওই চক্রের কাছে। ওই চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতেই তাদের এই মানব বন্ধন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়, রবি মৌসুমে উপজেলার বাউফল, দাসপাড়া, বগা, নওমালা, আদাবাড়িয়া এ পাঁচটি ইউনিয়নের কৃষকদের চাষাবাদের জন্য পানির একমাত্র উৎস বগা, কাশিপুর, হাজিরহাট, মৈষাদি ও পাশ্ববর্তী উপজেলা গলাচিপার ছোনখোলা খালের স্লুইচ গেট। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের স্বজন প্রীতির কারণে বাউফল, দাসপাড়া, বগা, আদাবাড়িয়া ও নওমালা এ পাঁচটি ইউনয়নের কৃষকের ফসলি জমিতে পানি দেওয়ার কথা থাকলেও কৃষক যথাসময়ে পানি পায় না। অভিযোগ রয়েছে স্লুইচগেটে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্ধারিত টাকার বিনিময়ে চাষীদের ভাগ্যে পানি মেলে ।

নওমালা ইউনিয়নের কৃষক সমিতির সভাপতি ও প্রবীণ ইউপি সদস্য আজাহার আকন সাংবাদিকদের বলেন, নিজ বটকাজল, পশ্চিম বটকাজল, উত্তর বটকাজল, সাবুপুরা, ভাংরা, মহাশ্রাদ্ধি, আতোষখালি, দাসপাড়া, মৈষাদি, রাজনগর, বানছের হাওলা, গুলিঠামৌজসহ প্রায় দশহাজার কৃষক রবি মৌসুমে ইরি, বোরো, ফুট, তরমুজসহ নানা প্রকার কৃষিজাত দ্রব্য উৎপন্ন করে থাকে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এ স্লুইচগেট রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব স্থানীয় প্রভাবশালী আনোয়ার আকন, রাজ্জাক সিকদার, ও হারুণ খানকে দেয়। কৃষকদের পানির জন্য স্লুইচগেট খুলে দিতে বললে নগদ টাকার বিনিময়ে ওই প্রভাবশালীরা স্লুইচগেটের কপাট খুলে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্ষা মৌসুমে স্লুইচগেটের কপাট খুলে কৃষকের ফসলি জমি তলিয়ে দেয়। ফলে ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে আমণ বীজতলা ও আমণ ধান চাষাবাদ আশানুরুপ হচ্ছে না এলাকার কৃষকের। অবশ্য সকল প্রকার অভিযোগ অস্বিকার করেছেন, সংশ্লিষ্ট স্লুইচগেটের দায়িত্ব প্রাপ্তরা।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার জামান বলেন, কৃষকের ফসলি জমিতে প্রয়োজনীয় পানি না দেওয়ার পানি উন্নয়ন র্বোডের বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পটুয়াখালীর কৃষি বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে অবহিত করবেন।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নিবার্হ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্বজনপ্রীতির বিষয়টি তিনি জেলা উন্নয়ন সভায় অভিযোগ করবেন।