বাউফলে ক্লিনিকে নবজাতকের  মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

1

 

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফল হাসপতালের সামনে সেবা ক্লিনিকে এক নবজাতকের মুত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মৃত ওই নাবজাতকের পিতা আনোয়ার হোসেন ব্যাপারি বাদি হয়ে ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সপ্না আক্তার, ক্লিনিকের অংশীদার হাফিজ ও মিলনসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে  আসামি করে গতকাল সোমবার বিকালে এ মামলাটি রুজু করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, গত শুক্রবার উপজেলার কালইয়া ইউনিয়নের কোটপাড় এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ব্যাপারির স্ত্রী নাজমা বেগমের (২০) প্রসব বেদনা শুরু হলে ওই দিন রাত ৯ টার দিকে তাকে সেবা ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়। ক্লিনিকে ডাক্তার নেই জেনে প্রসূতির স্বজনরা তাকে অনত্র নেয়ার চেষ্টা করলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কয়েকজন স্টাফ তাকে জোর করে ক্লিনিকের দোতালায় নিয়ে যান। এর ৩০-৪০ মিনিট পর সংশ্লিষ্টরা স্বজনদের জানান, ওই প্রসূতি  একটি মৃত  সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ওই নবজাতকের মা নাজমা বেগম জানান, ক্লিনিকে আসার পরও তার পেটে  বাচ্চা নাঁড়াচাড়া করেছিল। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে তার বাচ্চাটি মারা গেছে। মৃত নবজাতকের বাবা আনোয়ার হোসেন ব্যাপারি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে একটি অলিখিত স্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছেন। তাদের শিখিয়ে দেয়া স্বীকারোক্তি মোবাইলে ভিডিও করেছেন এবং এ কথা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়েছেন। বাউফল থানার ওসি আযম খান ফারুকী জানান, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আমরা আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, এরআগেও ওই ক্লিনিকে এ ধরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। অনুমোদিত ডাক্তার, নার্স ও প্যাথলোজি  টেকনিশিয়াল ছাড়াই ক্লিনিকটি চালানো হ্েচ্ছ। এই ক্লিনিকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সপ্না আক্তারের কথামনি নামের আরেকটি ক্লিনিকও চলছে ওই অবস্থায়। এই ক্লিনিকের ভুল রিপোর্টের কারণে  নাজিরপুর বোর্ড প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন এলাকার অলিউল মজিদ নামের এক ব্যাক্তি মত্যুপথযাত্রী হতে ছিলেন। এতসব ঘটনার পরেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেননা।