বাউফলে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে গণধর্ষণ ১মাসেও আসামি ধরা ছোঁয়ার বাইরে

1

 

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফলের চাঞ্চল্যকর মা-মেয়েকে ট্রলারে তুলে নিয়ে তেঁতুলিয়া নদীতে গণধর্ষণ ঘটনার এক মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও ঘটনার সময় একজন ব্যতিত আর কোন আসামি ধরতে পারেনি । এদিকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ মেয়েকে ধর্ষণ করা হলেও মা কে ধর্ষণ করা হয়নি উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। মামলাটি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছেন। তবে বাউফল থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন বিকেলে উপজেলার কাছিপাড়া এলাকা থেকে এক সংখ্যালঘু পরিবারের মা ও কলেজ পড়–য়া মেয়ে কালাইয়া ইউনিয়নের শৌলা গ্রামে একটি পার্কে ঘরতে গেলে সেখান থেকে এক মটর সাইকেল চালক তাদেরকে ফাঁকি দিয়ে নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদি লঞ্চঘাটে নিয়ে গেলে তাদেরকে ৭ দুর্বৃত্ত একটি ট্রলারে তুলে তেঁতুলিয়া নদীর মাঝে নিয়ে উপর্যপরি ধর্ষণ করে। স্থানীয় জেলেরা মা মেয়ের চিৎকার শুনে ডাকাত ভেবে ট্রলারটিকে ঘিরে ফেললে দুর্বৃত্তরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর সময় নুর আলম নামের একজনকে আটক করে। বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে বাউফল থানা পুলিশ ট্রলারসহ মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে এবং মামলার আলামত হিসাবে মা ও মেয়ের রক্তমাখা স্যালোয়ার-কামিজ এবং কাপড় জব্দ করে। ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী বাদি হয়ে ৭ জনকে আসামি করে ১৩ জুন বাউফল থানায় একটি মামলা করেন। ওই দিনই পুলিশ আটক নুর আলমকে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আমিরুল ইসলামের আদালতে হাজির করালে সে ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দেয়। এদিকে মা ও মেয়ের ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য তাদেরকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে ১৯ জুন মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিন্তু মা কে ধর্ষণ করা হয়নি উল্লেখ করে মেডিকেল রিপোর্ট বাউফল থানায় পাঠানো হয়। মেডিকেল রিপোর্টটিতে মা কে ধর্ষণের কথা উল্লেখ না থাকায় রিপোর্টটি নিয়ে লুকোচুরি করার অভিযোগ এনে সেটি প্রত্যাখান করেছেন মামলার বাদি। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাঈদুর রহমান বলেন, চাঞ্চল্যকর মা মেয়ের গণধর্ষণের মেডিকেল রির্পোটে জোরপূর্বক মেয়েকে ধর্ষণের কথা উল্লেখ থাকলেও মায়ের বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ না থাকায় তিনিও হতবাক হয়েছেন। এদিকে মামলাটি মিমাংসা করানোর জন্য একটি গ্রুপ বাদিকে চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আযম খান ফারুকী জানান, এক মাস অতিবাহিত হচ্ছে ঠিকই তবে আমরাও বসে নেই। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যহত আছে।