বাউফলে টিআর-কাবিখার অর্থায়ণে দেয়া সোলার প্যানেল অকেজো: ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ

0

11

বিশেষ প্রতিনিধি:বাউফলের দুর্গম এলাকায় টিআর-কাবিখার অর্থায়ণে সরবরাহ করা সহা¯্রাধিক সোলার প্যানেল স্থাপনের পরপরই অকেজো হয়ে পরেছে। বিনামূল্যে সরবরাহ করা ওই সোলার প্যানেল ক্রয়ে সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আসম ফিরোজ বাউফল উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্দেশ্যে টেস্ট রিলিফ ও কাবিখা কর্মসূচীর চাল বিক্রির টাকা দিয়ে উপজেলার দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ওই উদ্যোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের প্রায় আশি ভাগ পরিবারকে বিনামূল্যে সোলার প্যানেল সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও ধুলিয়া ইউনিয়নের চর বাসুদেবপাশা ও কাছিপাড়াসহ প্রতিটি ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় সুবিধা বঞ্চিত পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে সোলার প্যানেল সরবরাহ করা হয়েছে। স্থাপন করা সোলার প্যানেল কিছু দিনের মধ্যেই অকেজো হয়ে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, কালিশুরী ইউনিয়নে বিভিন্ন বাড়িতে সোলার স্থাপন করার পর থেকে একটি সোলার প্যানেলও কাজ করছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমীর আলী জানান, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নকে মূল ভুখন্ড থেকে তেঁতুলিয়া নদী বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এখানে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের অধিকাংশ পরিবারই জেলে ও কৃষক। ওই ইউনিয়নের প্রতিটি বসতবাড়িতে যে ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে সে অনুযায়ী কাজ করছে না। তিনি বলেন, একটি বাড়িতে ৩টি বাতি জ্বালানোর জন্য সোলার প্যানেল স্থাপন করা হলেও বাতি তো দূরের কথা ঠিকভাবে মোবাইল ফোনের চার্জও হচ্ছে না। ভূক্তভোগিরা জানান, সব সোলার প্যানেলগুলোই নি¤œমানের উপকরণ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে। যারফলে সোলারগুলো কাজ করছেনা। সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান ওই সোলার প্যানেলগুলো সরবরাহ ও স্থাপন করেছে।

নিম্মমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি করা সোলার প্যানেল সরবরাহের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের বাউফল শাখার এক কর্মকর্তা এরসাথে জড়িত রয়েছেন। এবিষয়ে বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান জানান, কিছু কিছু এলাকা থেকে সোলার প্যানেল কাজ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে সোলার প্যানেল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দেলোয়ার হোসেন জানান, অধিকাংশ সুবিধাভোগী সোলার প্যানেল অকেজো হওয়ার বিষয় নিয়ে তার কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, টেকনিক্যাল বিষয় এবং গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়টি সম্পূর্ণ সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের। এ প্রসঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের বাউফল শাখার ব্যবস্থাপক পরিতোষ কান্তি দাস বলেন, গুণগত মান বজায় রেখেই প্রতিটি সোলার প্যানেল সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মেঘ ও কুয়াশার কারণে কিছু সোলার প্যানেলে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে।