বাউফলে ডিবি পুলিশকে চাঁদা দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ,আহত-৩

0

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি ঃ বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ শিকারে ডিবি পুলিশকে চাঁদা দেয়া না দেয়াকে কেন্দ্র করে জেলেদের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে তিন জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে এঘটনা ঘটেছে। এদিকে আজ শুক্রবার মধ্য রাত থেকে ইলিশ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় জেলেরা জাল নৌকা নিয়ে বৈধভাবে ইলিশ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

স্থানীরা সূত্র জানান, সরকার ঘোষিত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীর ৪০ কিলোমিটার অভয়ারণ্যে মা ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করলেও এক শ্রেণির অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্বিঘেœ মা ইলিশ শিকার করে আসছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্ট গার্ড অভিযান চালালেও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ওই অসাধু জেলেরা মা ইলিশ শিকারে মেতে উঠে। এ সুযোগ নিয়ে পটুয়াখালীর ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী ইলিশ শিকার করা প্রতি জেলেদের থেকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা ও পাঁচ হালি ইলিশ দাবি করা হয়। এলাকার ফারুক চৌকিদার ডিবি পুলিশকে চাঁদা ও মাছ দিতে স্বীকার হলেও জেলে আবুল হোসেন তাতে বাঁধা দেন। এঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে সালাম (৩৫), রফিক (৫৫) ও কুদ্দুস (২৪) জেলেসহ ৪/৫ জন আহত হন। এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ এলে তিনি দুই পক্ষের জেলেদের তার অফিসে ডেকে আনেন। এ সময় বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেলেদের থেকে পটুয়াখালী ডিবি পুলিশের মোবাইল নম্বর নিয়ে কথা বলে চাঁদা ও মাছ চাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে জানেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবাইলে ওই ডিবি পুলিশকে “বাউফল শিক্ষিত এলাকা এবং বিষয়টি খুবই সেনসেটিভ, কাজটি করা ঠিক হয়নি” বলে প্রতিউত্তর দেন। এ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্র থেকে জানা যায়, কোস্ট গার্ড, মৎস্য অধিদপ্তর ও পুলিশের অভিযানে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত তেঁততুলিয়া নদী থেকে এক লাখ ৬৫ হাজার পাঁচশত মিটার জাল উদ্ধার করে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং ১৯ জেলে সহ ১৮টি মাছ ধরার নৌকা আটক করা হয়েছে। এসময় এক লাখ এক হাজার টাকা জরিমানা আদায়সহ ১৯ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়। এদিকে আজ শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় জেলেরা বৈধভাবে ইলিশ শিকারের জন্য তাদের জাল নৌকা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ##