বাউফলে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর আতঙ্কে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়

5

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল ঃ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পশ্চিম অলিপুরা গ্রামের একটি মন্দিরে শুক্রবার গভীর রাতে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর করে পাশ্ববর্তী পুকুর ও মন্দিরের মধ্যে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার পর ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতংক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

সরেজমিন দেখা গেছে, দুর্বৃত্তরা দুর্গা দেবীর দশ হাত, মাথা ও পা সহ সম্পূর্ণ মূর্তিটি ভেঙ্গে পাশের পুকুর ও মন্দিরের মেঝেতে ফেলে রেখে গেছে। মন্দিরের পূজা কমিটির সভাপতি বিচিত্র সরকার জানান, বিগত পাঁচ বছর ধরে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এখানে পূঁজা করে আসছে। কখনো এধরণের ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পার্শ্ববর্তী বশার তালুকদারদের সাথে তাদের মামলা চলে আসছে। তারা এ মন্দিরে পূজা করতে দেবেন না বলে সম্প্রতি হুমকি দিয়েছিলেন। তবে তাদের দ্বারা এঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না পূঁজা কমিটির কেউ। বাড়ির অন্যান্য লোকজন বলেছেন, এটা দুস্কৃতিদের কাজ। এমনটা হলে পূঁজা করাই যাবেনা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

 

বাউফল উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধীর রঞ্জন দাস জানান, পার্শ্ববর্তীদের সাথে মামলা মোকদ্দমা থাকায় তাদের দ্বারা এটা হয়েছে সেটা ভাবা ঠিক নয়।

 

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ জা মো. মাসুদুজ্জামান জানান, নতুন করে প্রতিমা তৈরী করে পূজা করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসা পটুয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ জনান, নির্মাণ সামগ্রীর খড়-কুটা ও সূতলি দুর্বল থাকায় এটা ভেঙ্গে পরতে পারে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

তবে প্রতিমা নির্মাণকারী গুণরাজ তপন কুমার পাল বলেন, নির্মাণ সামগ্রী দুর্বল এ কথাটা ঠিক নয়। যুগ যুগ ধরে এভাবেই প্রতিমা তৈরী করে আসছি। খড়-কুটা ও সূতলির কারণে প্রতিমা ভেঙ্গে পরতে পারেনা। তাহলে সারা দেশের প্রতিমাই ভেঙ্গে পরতো। ##