বাউফলে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ব্রিজ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম

0

 

অতুল পাল ,বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফলে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ৩০টি ব্রিজ নির্মাণে ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে ১৫টি ব্রিজের কাজ গোপণ টেন্ডারের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গুজ পদ্ধতির মাধ্যমে এ কাজ করেছেন বলে জানা গেছে। জুন মাসকে কেন্দ্র করে তরিঘরি নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে রাতের আধাঁরে কোন প্রকার তদারকি ছাড়াই পানির মধ্যে চলছে ঢালাই কাজ। সরকারের উন্নয়ন কাজে সাধারন মানুষ খুশি হলেও দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের দেখভাল না থাকায় সাধারন মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এসংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাংবাদিকদের সাথে চরম অশালীন আচরণ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা অধিদপ্তরের অর্থায়নে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের অধীন প্রকাশ্য টেন্ডারের মাধ্যমে গত ৬ এপ্রিল ৩ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ টাকা ব্যয়ে ১৫টি সেতুর নির্মাণের জন্য ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেয়া হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস একই দিন গোপন টেন্ডারের মাধ্যেমে সমপরিমান অর্থের আরো ১৫টি ব্রিজের কাজ কয়েকজনকে ভাগবাটোয়ারা করে দেন। অর্থবছর শেষ হতে থাকার সুযোগ নিয়ে ঠিকাদাররা নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ও কোন প্রকার তদারকি ছাড়াই রাতের আধাঁরে পানির মধ্যেও ঢালাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মদনপুরা ইউনিয়নের রামলক্ষণ গ্রামে আবদুর রব গাজীর বাড়ির পাশের খালে নির্মাণাধিন একটি ব্রিজের কাজ দেখতে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকরা কোমর সমান পানির মধ্যে নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে ঢালাই কাজ করছেন। সেখানে ঠিকাদার কিংবা পিআইও অফিসের  কোন সুপারভাইজার নেই। শ্রমিকরা জানান, ব্রিজটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ব্রিজটির ঠিকাদার। কেশবপুর ইউনিয়নের তালতলি বাজারের পূর্বপাশে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অপর একটি ব্রিজ। ওই ইউনিয়নের অওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্রিজটির কাজ করাচ্ছেন। দ্বিপাশা বাজারের পশ্চিম পাশে খালেক হাওলাদার বাড়ির পাশে সাত রাস্তার মাথার খালে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অপর একটি ব্রিজ। ওই ব্রিজটির ঠিকাদার হচ্ছেন উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। দাশাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নওমালাতে একটি ব্রিজের কাজ পেয়ে সেটির জন্য বর্ধিত স্টিমেট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ধুলিয়া ইউনিয়নে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজের কাজ পেয়েছেন। তবে ওই ব্রিজটির কাজ এখনো শুরু হয়নি। ক্ষমতাসিন দলের নেতারা ভাটবাটোয়ারা করে ৩০টি ব্রিজের কাজ নিয়েছে। নানা ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ব্রিজগুলো বন্টন করা হলেও ব্রিজের কাজ সঠিকভাবেই পেয়েছেন এবং সঠিকভাবেই নির্মাণ কাজ হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারগণ জানিয়েছেন।

ব্রিজ নির্মাণে ব্যপক অনিয়ম সম্পর্কে বাউফলের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ব্রিজ নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহবান থেকে শুরু করে কোন কাজেই অনিয়ম হয়নি। ক্ষমতাসিন দলের কোন বিষয় নেই। ঠিকাদাররা কাজ পেয়েছেন। রাতের আধাঁরে নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে পানির মধ্যে ঢালাই দেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে পিআইও বলেন, সারা দেশেই এমনটা হচ্ছে। আমাদের লোকবল কম তাই সব সময় সুপারভাইজ করা সম্ভব হয়না। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, একাজ বুঝতে হলে লেখাপড়া করে আসতে হয়। সাংবাদিকদের কোন কাজ নেই, শুধু ব্রিজ ব্রিজ করছেন। এমন মন্তব্যে স্থনীয় সাংবাদিকদের সাথে পিআইও’র চরম বাকবিতন্ডা হয়। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহামুদ জামান বলেন, বর্ষা এবং অর্থ বছরের শেষ সময়ে এ ধরণের বরাদ্দ দেয়ায় এক শ্রেণির ঠিকাদাররা সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করেন। তবে অভিযোগগুলো ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্রিজ নির্মাণ সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারন মানুষ জানান, সরকার দেশের উন্নয়ন করতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিলেও কিছু কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে সরকারের সকল সুনাম বিলীন হয়ে যাচ্ছে।