বাউফলে নববধুকে পৈচাশিক নির্যাতন, গ্রেপ্তার-২

2

অতুল পাল,বাউফল বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফলের আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাশিপুর বাধ এলাকায় এক নববধুকে পৈচাশিক নির্যাতনের ঘটনায় দুই জনকে আটক করেছে বাউফল থানা পুলিশ। আজ বৃহষ্পতিবার তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

থানার দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ সদরের কালীবাড়ি রোডের চর এলাকার জামাল উদ্দিনের মেয়ে ফাহিমা আক্তার হ্যাপি(২০) গাজীপুরের এএসআর গার্মেন্টেসে ফিনিসিং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই গার্মেন্টেসে পটুয়াখালীর ভায়লা গ্রামের আ.হক সিকদারের ছেলে আল আমিন প্রশাসন বিভাগে চাকুরি করতেন। চাকুরির সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয় হয় এবং গত ২ মার্চ গাজীপুর রোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করে মাওনা এলাকার সেলিম মিয়ার বাড়ি ভাড়া করে বসবাস শুরু করেন। ৫ মার্চ আল আমিন ব্যবসার জন্য এক লাখ টাকা দরকার বলে হ্যাপিকে জানালে হ্যাপি তাকে ৫০ হাজার টাকা দেন। ওই টাকা নিয়ে আল আমিন দেশের বাড়ি চলে আসে এবং মোবাইল বন্ধ করে রাখে। কয়েক দিন খোঁজাখুজির পর গত ১৪ মার্চ হ্যাপি রোটারি পাবলিকের ঠিকানা মোতাবেক গাজীপুর থেকে পটুয়াখালীর ভায়লা গ্রামে এলে আল আমিন ও তার ভগ্নিপতি লিটন আকন হ্যাপিকে বাউফলের কাশিপুর এলাকায় লিটনের বাড়ি নিয়ে আসে। সেখানে তালাক দেয়ার জন্য হ্যাপিকে চাপ দেয়া হয়। এক পর্যায়ে স্বামী আল আমিন, তার ভগ্নিপতি লিটন ও তার স্ত্রী ঝর্না বেগম হ্যাপির হাত-পা বেধে তার মুখে কাটা চামচ ঢুকিয়ে নির্যাতন চালিয়ে রক্তাক্ত করে। হ্যাপি অজ্ঞান হয়ে পরলে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। গত বুধবার সকালে হ্যাপি কৌশলে ঘরের বাহিরে এসে ডাক-চিৎকার দিলে আসপাশের লোকজন এসে ঘটনা জেনে লিটনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে আহত হ্যাপিকে উদ্ধার ও লিটনকে গ্রেপ্তার করেন এবং ওই দিন রাতেই আল আমিনের পিতা আ. হক(৭০)কে গ্রেপ্তার করে। আজ ১৬ মার্চ, বৃহষ্পতিবার বেলা ১০ টার দিকে হ্যাপির ভাই রমজান(৩৫) ও মা হালিমা খাতুন(৫০) ময়মনসিংহ থেকে বাউফলে এসে বাউফল থানায় আল আমিন, লিটন আকন, ঝর্না বেগম ও আ. হককে আসামি করে মামলা দায়ে করলে পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠান।