বাউফলে নাম পরিবর্তন করে প্রার্থী হলেন সাজা প্রাপ্ত দুই ভাই

3

বাউফল প্রতিনিধি : যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। অথচ সেই তথ্য গোপন করে নাম পরিবর্তন করে সরকার দলীয় চিফ হুইপ ও স্থানীয় সাংসদ আ স ম ফিরোজের দুই ভাতিজা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এরা হলেন মো. মনির হোসেন মোল্লা ও তাঁর ছোট ভাই মো. আলকাস মোল্লা। মনির হোসেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। বর্তমানেও তিনি একই ইউপির চেয়ারম্যান পদে নাম পরিবর্তন করে এস এম ফয়সাল আহমেদ নামে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আর আলকাস হলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনিও নাম পরিবর্তন করে মো. এনামুল হক নামে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) হিসেবে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষনা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ২৬ (২) ধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তি নৈতিক স্থলন জনিত ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অনূন্য দুই বছর কারাদন্ডে দন্ডিত হলে তাঁর মুক্তি লাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।

এক্ষেত্রে কোন ক্ষমতাবলে নাম ভাড়িয়ে তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সেই প্রশ্ন এখন জনমনে ।

অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে,বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের গেজেট অনুযায়ী তিনি ২০০৩ সালে ইউপি নির্বাচনে পটুয়াখালীল বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউপির চেয়ারম্যান পদে মো. মনির হোসেন মোল্লা নামে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন। এদিকে ১৯৯৬ সালের ৩ আগস্ট মো. কামাল হোসেন (২২) নামে স্থানীয় এক তরুনের রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে দুই চোখ উৎপাটনের মামলায় পটুয়াখালীর বিশেষ দায়রা জজ আদালতের হাকিম তপন কুমার দে ২০০৭ সালের ২১ মে তারিখ মো. মনির হোসেন ও আলকাসসহ আরও পাঁচ আসামির  যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেন। কয়েক বছর সাজা ভোগের পর ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে তাঁরা জামিনলাভ করেন। মামলাটি বিচারাধীন থাকার কারণে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০০৮ সালের ১ জুন তাঁকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এরপর মনির হোসেন ২০১১ সালের ইউপি নির্বাচনে নাম পরিবর্তন করে তথ্য গোপন করে এস এম ফয়সাল আহমেদ নামে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এদিকে ভোটার তালিকা অনুযায়ী ২০০৩ সালের ইউপি নির্বাচনে বর্তমান মো. এনামুল হক নামের ব্যক্তিই মো. আলকাস মোল্লা।

রিটানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মনির হোসেন ও আলকাস তাঁদের মনোনয়ন ফরমের তৃতীয় অংশে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ২৬ (২) ধারা অনুযায়ী নিজেদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হবার যোগ্য বলে ঘোষনা করেছেন।

এস এম ফয়সাল আহমেদ ওরফে মনির হোসেন মোল্লা বলেন,‘মামলাটি বিচারাধীন। সনদ অনুযায়ি তাঁর নাম এস এম ফয়সাল আহমেদ। এ কারণেই মনির হোসেন মোল্লা নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। আর এস এম ফয়সাল আহমেদের নামে কোনো মামলা নেই। তাই মনোনয়ন ফরমে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি। তাছাড়া মামলা থাকলেও নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই মর্মে তাঁর কাছে হাইকোর্টের আদেশ আছে বলে তিনি দাবি করেন।

মো. এনামুল হক ওরফে মো. আলকাস মোল্লা বলেন,‘সনদ অনুযায়ী তার নাম মো. এনামুল হক। এ নামেই তিনি ভোটার হয়েছেন। আর এই নামে কোনো মামলা নেই কিংবা সাজাও নেই। এ কারনেই মনোনয়ন ফরমে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি।’ তাঁরও নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই মর্মে তাঁর কাছে হাইকোর্টের আদেশ আছে বলে তিনি দাবি করেন।

কালাইয়া ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহাবুব হাসান ভূইয়া বলেন, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ২৬ (২) ধারা অনুযায়ী তাঁরা চেয়ারম্যান হিসেবে নিজেদের নির্বাচিত হবার যোগ্য বলে ঘোষনা করেছেন। মানে মামলা সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি। চেয়ারম্যান পদে এনামুল হক ও এস এম ফয়সাল আহমেদ নামে যে দুইটি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তা ভোটার তালিকা অনুযায়ী সঠিক। আর এ বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেননি। এ কারণে বৈধ ঘোষনা করা হয়েছে।