বাউফলে নির্বাচনী সহিংসতা বেড়েই চলেছে

1

বাউফল প্রতিনিধি: আগামী ২২ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বাউফলে ১১ টি ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ক্রমেই বেড়ে চলেছে নির্বাচনী সহিংসতা। এসহিংসতা ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহীদের নিয়েই বেশি হচ্ছে। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বাউফলের জনপদ। নির্বাচনী সহিংসতায় জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হলেও নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভোট নিয়ে সাধারন ভোটাররা ইতিমধ্যেই তাদের শংকা প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাউফলের ১১ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ৫৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে ১১ জন নৌকা, ১১ জন ধানের শীষ, ৭ জন ইসলামী আন্দোলন, ১ জন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি এবং বাকিরা ক্ষমতাসিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, বাউফলের বগা, নওমালা, চন্দ্রদ্বীপ, কেশবপুর, কালিশুরী, কাছিপাড়া, ধুলিয়া এবং সূর্যমনি ইউনিয়নে নির্বাচন পূর্ব ও নির্বাচন পরবর্তী ব্যাপক সহিংসতার আশংকা রয়েছে। এসকল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি ও জামাতের সমর্থন নিয়ে নিজ দলেরই বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই বাউফলের ধুলিয়া, কাছিপাড়া এবং নওমালা ইউনিয়নে নির্বাচনী মাঠ দখল নিয়ে ব্যপক সংঘর্ষ হয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতা রোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাউফল থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ৩ মার্চ রাতভর এবং ৪ মার্চ সকালে নওমালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা নৌকা মার্কার সমর্থকদের বাড়িঘরে নারকীয় তান্ডব চালালেও পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। পুলিশ গাড়ি নিয়ে সদর রাস্তায় ঘোরাঘুরি করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন বলে ভূক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন। নারকীয় তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত নওমালা আবদুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ আবদুল মালেক জানান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা তার ঘরে তান্ডব চালিয়ে ফ্রিজ, টেলিভিশন ভাঙচুর সহ কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন। ওই সময় বাড়ির লোকজন পুলিশের সাহায্য চেয়েও পায়নি। জনশ্রুতি রয়েছে, বাউফল থানার ওসি আ জা ম মাসুদুজ্জামান বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার জানান, বাউফল খানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করছেন না। তিনি বিশেষ গোষ্ঠীকে নির্বাচনী মাঠ দখলে সহায়তা করছেন। নওমালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা ও সভাপতি রত্তন আলী মৃধা অভিযোগ করেন, পুলিশ কৌশলে নৌকা মার্কার সমর্থকদের তারা করে দুরে সরিয়ে রাখছেন। এর ফলে বিএনপি-জামাত সমর্থিত বিদ্রোহীরা সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি আ জা ম মাসুদুজ্জামান জানান, কোন সহিংসতার খবর পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেই। কোন গোষ্ঠী কিংবা দলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ ভিত্তিহীন।