বাউফলে নৌকার প্রার্থীর ভাই খুন: আ’লীগের বিক্ষোভ-অবরোধ: ডিসি অবরুদ্ধ

0

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফলে নির্বাচনী সহিংসতায় গত সোমবার রাতে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের নৌকা মার্কার প্রার্থীর ভাই ও আদাবাড়িয়া ইউপি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আশ্রাফ ফকিরকে(৩৫) সতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করেছে। এঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে আশ্রাফকে খুনের প্রতিবাদে এবং বাউফল থানার ওসি মাসুদুজ্জামানকে প্রত্যাহারের দাবিতে ক্ষমতাসিন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী গতকাল মঙ্গলবার বেলা সারে ১২ টায় বাউফলে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছেন। এসময় জেলা প্রশাসক বাউফলে এলে বিক্ষোভকারীরা তাকে বহনকারী গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সারে ৮ টার দিকে আদাবাড়িয়া ইউপির ছিদ্দিকের বাজারে নৌকা মার্কার প্রার্থী সামসুল হক ফকিরের পক্ষে মিছিল করে মটর সাইকেল যোগে সামসুল হক ফকিরের খালাতো ভাই আশ্রাফ মিল ঘর এলাকায় আসার পথে কাদের মাতব্বর বাড়ির পাশের ব্রিজের কাছে এলে সতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) জাহাঙ্গীর উল্লাহর সমর্থকরা তাকে অপহরণ করে পাশের বারেক মোল্লা বাড়ি নিয়ে কুপিয়ে জখম করে তার দোতলা ঘরের ওপরে ফেলে রাখে। সমর্থকরা এখবর পুলিশকে জানালে এসআই মনিরের নেতৃত্বে ৩ জন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পরে। এরপর রাত সারে ১০টায় বাউফল থানার ওসি আ জা ম মাসুদুজ্জামানের নেতৃত্বে এক গাড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্রাফকে উদ্ধার করে বাউফল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এঘটনার জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী আশ্রাফের মৃত্যুর বিচার ও বাউফল থানার ওসি মাসুদুজ্জামানকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে থানার সামনে অবস্থান নেন। বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন খান, সাধারন সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম ফারুকসহ ১১ ইউনিয়নের নৌকা মার্কার প্রার্থীগন। এসময় থানার নিরাপত্তার জন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশ মূল ফটকে অবস্থান নেয়। বিক্ষোভকারীরা থানার সামনের রাস্তায় শুয়ে পরে রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। এসময় আইন-শৃংখলা বিষয়ক এক সভায় যোগ দিতে জেলা প্রশাসক একেএম শামীমউল হক সিদ্দিকি বাউফলে আসলে বিক্ষোভকারীরা তার গাড়িও অবরুদ্ধ করে রাখেন। জেলা প্রশাসক তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দিলেও ওসির প্রত্যাহর না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ি আটকে রাখেন। পরে তিনি ১ কি:মি: পায়ে হেটে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যান। বেলা আড়াইটার দিকে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান বাউফলে এসে ওসির প্রত্যাহার সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়ে বলেন, যেহেতু জেলা প্রশাসক রির্টানিং অফিসার তিনি ইচ্ছে করলে এখনই ব্যবস্থা নিতে পারেন। জেলা প্রশাসক বাউফলে আছেন। তার সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরপর বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এদিকে আদাবাড়িয়া এলাকায় পটুয়াখালী পুলিশ লাইন থেকে বিপিুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং র‌্যাব টহল দিচ্ছে।