বাউফলে পানির জন্য হাহাকার

0

বাউফল প্রতিনিধি ঃ পটুয়াখালী জেলার বাউফলের বাণিজ্য কেন্দ্র কালাইয়া বন্দরে একটি বেসরকারি সংগঠনের খামখেয়ালিপনার করাণে পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। অসহ্য তাপদাহের মধ্যে বিগত তিনদিন পর্যন্ত সাপ্লাইয়ের পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় শত শত পরিবারের নাওয়া-খাওয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে পানির জন্য এ হাহাকার দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনে কর্মরতদের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে কবে পানি দিতে পারবেন সে বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য দিতে পারেননি।

জানা গেছে, বাউফলের কালাইয়া বন্দরে “ফিল বাংলাদেশ” নামে একটি সংগঠন বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সহায়তায় “সেচ ও পানি ব্যবস্থাপণার মাধমে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি পল্লী কর্মসমূহের শ্রমের প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও দারিদ্র বিমোচন” প্রকল্পের আওতায় কালাইয়া বন্দরে পানি সরবরাহ কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রকল্পের কাজ শুরুর দিকেই নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠলেও পানি সরবরাহের স্বার্থে স্থানীয় জনগণ বিষয়টি মেনে নেন। প্রকল্পের মেয়াদ ৫ বছর অতিবাহিত হলেও প্রতিমাসেই পানি সরবরাহে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। কখনো বিদ্যুতের বিল পরিশোধ না করায় লাইন বিচ্ছিন্ন করা, কখনো পাইপ ফেটে যাওয়া আবার কখনো মটোর পুড়ে যাওয়া ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা লেগেই রয়েছে। গ্রাহকরা জানান, সমস্যা থাকলেও  কোন মাসেই বিল কমছে না। বিলের সাথে সার্ভিস চার্জ এবং বিলম্ব মাশুলও নেয়া হচ্ছে। অপরদিকে অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের থেকে লাইন দেয়ার পূর্বে অগ্রিম টাকাও নেয়া হয়েছে। এদিকে গত ৫ মে থেকে হঠাৎ পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ দাবদহে কালাইয়া বন্দরের প্রায় ৫ শতাধিক গ্রাহক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা পানির জন্য হাহাকার করছেন।

এব্যাপারে ঢাকায় অবস্থান করা ফিলের পরিচালক হাবিবুর রহমান টিটুকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহামুদ জামান বলেন, ফিল নামের কোন সংগঠন বাউফলে আছে বলে তার জানা নেই। এনজিওদের কোন সভায়ও আজ পর্যন্ত তাদেরকে পাইনি। বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে দেখছেন। এদিকে পানির জন্য হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ  পোহাতে হচ্ছে।