বাউফলে প্রেমের বদলে শিকলে বাঁধা লিজার জীবন

2

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফলে প্রেমের বাঁধনের বদলে শিকলে বাঁধা জীবন কাটাচ্ছে লিজা (১৮) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রী। লিজা বাউফলের আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের খাসের হাওলা গ্রামের মৃত্যু ইউনুস হাওলাদারের ছোট মেয়ে । শিশুকালের প্রেম যৌবনে এসে পরিনতি লাভ করবে এমনটাই আশা ছিল লিজার। কিন্তু প্রেমিকের উচ্চাভিলাশের কারণে লিজার সে স্বপ্ন বাস্তবে রুপ না নিয়ে জীবনকে শিকলে বেঁধে ফেলেছে। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সুন্দরী লিজা এখন অন্তস্বারশূণ্য হয়ে পরেছে। পরিবারের লোকজনও দিগশূণ্য হয়ে লিজার ভালভাবে বেঁচে থাকার আশা পরিত্যাগ করেছেন।লিজার বড় বোন সেলিনা বেগম তার বোনের করুন এ পরিনতির কথা বলতে গিয়ে জানান, একই ইউনিয়নের মহেসেন উদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসায় ৭ম শ্রেণিতে পড়ালেখা অবস্থায় ওই মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রের সাথে লিজার প্রেমের সম্পর্ক হয়। দীর্ঘদিন এ সম্পর্ক থাকার পর ২০১৩ সালে ওই ছেলেটি আলিম পাশ করে মাদ্রাসা থেকে চলে যায়। চলে যাওয়ার পর লিজার সাথে আর যোগাযোগ রাখেনি। এরপর থেকে মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পরে লিজা। ওই অবস্থায়ই লিজা চিকিৎসা নিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যায় এবং ২০১৪ সালে ফাজিল (বিএ) প্রথম বর্ষে ওঠে। এরপর পারিবারিক ভাবে ওই ছেলের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু প্রেমিক ছেলেটি নগদ দুই লাখ টাকা নগদ দাবি করায় আর বিয়ে হয়নি। এ ঘটনার পর লিজা আবারও মানসিকক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরে। তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হলেও কোন উন্নতি হয়নি। বরং ঘর থেকে বের হয়ে একাকি এদিক ওদিক চলে যায়, ঘরের আসবাব পত্র ভাংচুর করে, পুকুরে ঝাঁপ দেয়। এ অবস্থায় স্থানীয়দের পরমর্শে লিজাকে বগা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক কবিরাজকে দেখিয়ে চিকিৎসা করলেও কোন উন্নতি হয়নি। এরপর থেকে বাধ্য হয়ে গত তিনমাস ধরে লিজার পায়ে শিকল বেঁধে রাখা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, শিকল পরা অবস্থায়ই কাটছে লিজার দিন রাত। কখনো ঘরের খুঁটির সাথে আবার কখনো ঘরের বাইরে গাছের সাথে শিকল দিয়ে লিজাকে বেঁধে রাখা হচ্ছে। তাকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করলে কোন উত্তর দেয়না। নিথর নি:স্তব্ধ দেহের মতো বসে থাকছে। খাওয়া দাওয়াও কমে গেছে। কিছু জিজ্ঞেস করলে নির্বোধ শিশুর মতো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। লিজার বড় ভাই বাবুল হাওলাদার জানান, জীবিকার তাগিতে তারা দুই ভাই ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করছেন। বাড়িতে মা, ওই বোন আর ভাইয়ের স্ত্রী থাকেন। লিজাকে শিকলে বেঁধে রাখতে মনে খুব কষ্ট পাই। কিন্ত কিছু করার নাই। আর্থিক দ্বৈন্যতার কারণে তার উন্নত চিকিৎসাও করাতে পারছিনা।

 

স্থানীয়রা জানান, ছেলেটি দীর্ঘদিন পর্যন্ত প্রেম করে মেয়েটিকে পাগল বানিয়ে চলে গেছে। তাদের মতে, প্রেম ও যৌতুকের বলি হলো লিজা।