বাউফলে বিদ্যালয়ে মডেল টেস্টের নামে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

0

43অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফলে বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম ও ১০ম শ্রেণির টেস্ট ও মডেল টেস্ট পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর খারাপ নজর পরবে বলে অভিভাবকরা এর কোন প্রতিবাদও করতে পারছেননা।

সরেজমিনে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর থেকে বাউফলে ৬০টি মাধ্যমিক ও নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের টেস্ট ও মডেল টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৮ম শ্রেণির মডেল টেস্ট ও ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষা চলবে। মডেল টেস্ট পরীক্ষার ফি বাবদ ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ এবং টেস্ট পরীক্ষার ফি বাবদ ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। কোন কোন স্কুলে আরও বেশি ফি নেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এসব বিদ্যালয়ে ৮ম ও ১০ম শ্রেণির প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৮ম শে্িরণর শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। তাদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবদ গড় হিসাব অনুযায়ী (২ হাজার টাকা হিসেবে) ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। অপর দিকে ১০ম শ্রেণির ৪ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গড় হিসাব অনুযায়ি ১২ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। পরীক্ষার ফি, কোচিং ফি, স্পোর্স ফি, মাসিক বেতন ও আন্যান্য বাবদ এ টাকা ধার্য্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাউফল পৌর শহরে অবস্থিত আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ে ৮ম ও ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাইরে অন্যসব ক্লাসের শিক্ষার্থীদেরও মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫০০। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কৌশল হিসাবে অন্যান্য ক্লাসের শিক্ষার্থীদেরও এ মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ এবং নবম ও দশম শে্িরণর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নেয়া হয়েছে। অথচ সরকারি বিধান অনুযায়ি মডেলে টেস্টের নামে এ ধরণের পরীক্ষা নেয়ার কোন সুযোগ নেই।

বাউফল আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের কয়েক ছাত্রীর অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের সন্তানদের রোষানলে পরতে হবে। শিক্ষকরা ক্লাসে অকারণে তাদের মারধরসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করবে। এই ভয়ে তারা মুখ বুঝে সব মেনে নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে বাউফল উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম রাসেল বলেন, পরীক্ষার ফি বাবদ ৬০০ টাকার বেশি নেয়ার কথা না। কোন স্কুল নিয়ে থাকলে তারা অন্যায় করেছেন।#