বাউফলে বিষটোপ দিয়ে শিকার করা হচ্ছে অতিথি পাখি

0

pic-5অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফলের বিভিন্ন চরাঞ্চলে শিকারীরা বিষটোপ দিয়ে নির্মমভাবে শিকার করছে শীতের অতিথি পাখি। একই সাথে প্রচলিত নানা ধরণের ফাঁদ পেতেও চলছে পাখি নিধন। শিকারীরা ধৃত পাখিগুলো সাবধানতার সাথে বিভিন্ন হাটবাজারে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছে কিংবা পূর্ব থেকেই ঠিক করা ক্রেতাদের বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে। সৌখিন পাখি মাংস প্রেমীরা সকল ধরণের বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে ওই পাখির মাংস দিয়ে রসনাবিলাস করছেন।

নাম গোপন রাখার শর্তে উপজেলার চর ওয়াডেল এলাকার এক পাখি শিকারী জানান, শীতের এ মৌসুমে দেশ-বিদেশ থেকে অনেক প্রজাতির পাখি চরে আসে। এদের মধ্যে বালিয়া হাঁস, সাইপ্রাসের বড় হাঁস, চক্কা, রাজ বক, পানকৌরি এবং সরাইল পাখি অন্যতম। এখন সারা চরাঞ্চলের ক্ষেত ভরে রয়েছে পাকা ধান। জোয়ারের পানির সাথে ছোট ছোট কিছু মাছ ধান ক্ষেত ও ডুবো চরে ওঠে যায়। ধান ক্ষেত ও ডুবো চর থেকে পানি নেমে যাওয়ার পূর্বমূহুর্তে ক্ষেতে ও ডুবো চরে বিষটোপ ছড়িয়ে রাখা হয়। পাখিরা ধান ক্ষেত ও ডুবো চরের পাশে মাছ খেতে গেলে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুর্বল হয়ে ছটপট করতে থাকে। ঠিক ওই মূহুর্তে শিকারীরা আক্রান্ত পাখিগুলো ধরে তাৎক্ষণিকভাবে জবাই করে ফেলে। পরে নদীর পানিতে কোন রকমে ধুঁয়েমুছে বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। অপরদিকে আরো কয়েক শ্রেণির পাখি শিকারী রয়েছেন যারা তাল গাছের শলা, কারেন্ট জাল, বরশি এবং লৌহজাত দ্রব্য দিয়ে তৈরী কিছু অস্ত্রে খাবার আটকে দিয়ে ফাঁদ ফেলেন। পাখিরা ওই খাবার খেতে এসে পায়ে কিংবা পাখায় ওই ফাঁদ আটকে যায়। ভোররাতে পাখি শিকারের উপযুক্ত সময় বলে জানান শিকারীরা। এভাবেই চলছে বাউফলের চরাঞ্চলে অতিথি পাখির নির্মম নিধন। আরো জানা গেছে, পাখি শিকারীরা পূর্ব থেকেই পাখির মাংস প্রেমীদের থেকে বায়না নিয়ে নেয়। খোলা বাজারে এসব পাখি বিক্রিতে বিধি-নিষেধ থাকায় সচারাচার শিকারীরা শিকার করা পাখি নিয়ে উন্মূক্তভাবে চলাচল না করে বাজারের ব্যাগ কিংবা অন্য কোন ধরণের থলের মধ্যে ভরে ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করে।

পরিবেশবাদীদের মতে, সুদীর্ঘকাল থেকে প্রচন্ড শীতের হাত থেকে রক্ষা পেতে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ শীতপ্রধান দেশে থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে আসে। চরাঞ্চল নিরাপদ ও খাদ্য সহজলভ্য হওয়ায় সেখানেই এরা দু’এক মাসের জন্য বসবাস করে। কিছু কিছু পাখির ক্ষেত্রে এসময় তাদের প্রজনন প্রক্রিয়াও ঘটে এবং ডিম ও বাচ্চা ফোটায়। নদী পারের আবর্জনা, ফলমূল, মাছ এবং ক্ষেতের শষ্যই এদের প্রধান আহার্য। নদী ও চরের আবর্জনা খেয়ে এরা পরিবেশকে দূষনমুক্ত রাখে। তবে এখন যেভাবে নির্মম মানষিকতা নিয়ে পাখি শিকার করা হচ্ছে তাতে অচিরেই পাখিদের আনাগোনা কমে যাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্টসহ প্রজনন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়ে এসব পাখিকুল বিলুপ্ত হয়ে যাবে