বাউফলে মডেল টেস্টের নামে   কোটি টাকার বাণিজ্য: পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন

3

অতুল পাল,বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালী বাউফলের ৬১টি মাধ্যমিক ও নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারি বিধি নিষেধ উপক্ষো করে শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নের নামে মডেল টেস্ট। এ মডেল টেস্টকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়গুলো প্রায় কোটি টাকার বাণিজ্যে নেমেছেন বলে অভিভাবকরা  ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এদিকে নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন না করে পরীক্ষার জন্য চাপ দেয়া হলে উপজেলার কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করেছে।

সূত্র জানায়, বাউফলের ৬১টি মাধ্যমিক ও নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে দশম  শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নের নামে ১৬ থেকে ১৯ এপ্রিল কথিত মডেল টেস্ট শুরু করছে। ওই পরীক্ষার জন্য গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ হিসেবে শিক্ষার্থীদের থেকে ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। অথচ এধরণের পরীক্ষা নেয়ার সরকারি কোন নির্দেশনা নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ি আগামী জুন মাসে পরীক্ষা নেয়ার নির্ধারিত সময় রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক অভিভাবক ক্ষোভের সাথে জানান, মাত্র কয়েক দিন হলো সরকার শিক্ষকদের বেতন কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন কিন্তু তাদের লোভ লালসা একটুও কমেনি। এদিকে কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাশ না হওয়ায় এবং সিলেবাস অনুযায়ি কোর্স শেষ না করে পরীক্ষা নেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ দেয়া হলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এসময় পরীক্ষা না নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বরাবরে আবেদন করলে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে আবেদন পত্র ছিঁড়ে ফেলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানান, প্রধান শিক্ষক মু. হারুন অর রশিদ ও সহকারি প্রধান শিক্ষক সুবোধ চন্দ্র দাস আবেদন পত্র ছিঁড়ে ফেলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন এবং ভবিষ্যতে দেখে নেয়ারও হুমকি দিয়েছেন। এঘটনার পর দশম শ্রেণির সকল ও নবম শ্রেণির আংশিক শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, লেখাপড়ার মান উন্নয়নের জন্য পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। তবে তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণের কথা অস্বীকার করেন। বাউফল উপজেলা শিক্ষক সমিতর সভাপতি নজরুল ইসলাম রাসেল জানান, শিক্ষকদের চাকুরিতে কোন ঘুষ বাণিজ্য নেই। বিদ্যালয়কে স্বীকৃতি প্রদানের সময় সাপ্তাহিক ও মাসিক পরীক্ষা নিতে হবে মর্মে শর্ত দেয়া হয়। একারণে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কিছু টাকা পয়সা পাওয়া যায়। তবে ফি এর নামে মাত্রাতিরিক্ত টাকা নেয়া হলে সমিতর পক্ষ থেকে বিষয়টি দেখা হবে।

বাউফল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল হক জানান, এধরণের পরীক্ষা নেয়ার কোন নির্দেশ নেই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহম্মদ আবদুল্লা আল মাহমুদ জামান বলেন, এবিষয়ে বড় ধরণের রিপোর্ট হওয়া উচিৎ। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।