বাউফলে মা ইলিশ শিকারের ধুম ব্যাগে ব্যাগে ইলিশ সাপ্লাই

1

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল ঃ আপনার কি পেটভর্তি ডিমওয়ালা মা ইলিশ প্রয়োজন ? কোন ব্যাপার না। উপজেলার নিদৃষ্ট কিছু প্রভাবশালী ও কিছু অসাধু জেলেদের মোবাইল ফোনে ফোন দিন। ফোন দিলেই ব্যাগে করে আপনার বাড়িতে পৌঁছে দিবে পেটভর্তি ডিমওয়ালা মা ইলিশ। সন্ধা হলেই তেতুঁলিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বসে ইলিশের হাট। এই হাট নিয়ন্ত্রন করেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী। অভিযোগ রয়েছে ওই প্রভাবশালীরা জেলেদের সার্বিক নিরাপত্ত্বা দেওয়ার নাম করে জেলেদের দিয়ে মা ইলিশ শিকার করাচ্ছেন। আর ওই ইলিশ অপেক্ষাকৃত দামে অনেক কম হওয়ায় ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে কিনতে।

একাধিক সুত্রে জানাগেছে, সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উপজেলার কিছু অসাধু জেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মা ইলিশ শিকারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে অসাধু জেলেদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সাহায্য করছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী। রাতের অন্ধকারে জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ শিকার করে বাড়িতে বাড়িতে, ধান ক্ষেতের আড়ালে, ঝোপের পাশে ও বনে-জঙ্গলে মজুদ করছে। যখনি কোন ক্রেতারা ফোন দেয় তখনই ব্যাগে ভরে ওই ক্রেতাদের পৌঁছে দেওয়া হয় ইলিশ। আর কিছু কিছু ক্রেতারা নিজ দায়িত্বে মটর সাইকেল যোগে বস্তায় ভরে নিয়ে আসছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, এ বিগত বছরের চেয়ে এ বছর মাছের পরিমান অনেক বেশি। ৮শ থেকে ৯শ গ্রামে পেটভর্তি ডিমওয়ালা ইলিশ প্রতি হালি (৪টা) ১হাজার থেকে বারোশত টাকা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাড়িতে পৌছেঁ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু টাকা নেওয়া হয়। উপজেলার দাসপাড়া গ্রামের এক ক্ষুদ্রব্যাবসায়ী বলেন, শুক্রবার এক মাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, ওই বিয়েতে আমার মতন গরীব মানুষ অতিথীদের এ ভাবে ইলিশ খাওয়াতে পারব ভাবিনি।

উপজেলা মৎস কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার নদী নিয়মিত দিন রাত টহল দিচ্ছি। তার পরেও কিছু অসাধু জেলে মাছ শিকারে নামে। তাদেরকে জেল জরিমানা সহ জাল পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল ও স্পিড বোটের অভাবে নদীতে যখাযথ ভাবে অভিযান চালানো যাচ্ছেনা। ট্রলার নিয়ে অভিযান চালাতে হচ্ছে।