বাউফলে মুগ ডালের বাম্পার ফলন ॥ কৃষকরা দাম পাচ্ছেন না

6

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে চলতি বছর অর্থকরী রবিশষ্য মুগডালের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেননা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম হাট কালাইয়া বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। অপরদিকে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ি এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মুগডালের চাষ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাউফলের অর্থকরী রবিশষ্য সোনামূখী মুগডাল এক সময় দেশ-বিদেশ জুড়ে সমাদৃত ছিল। কিন্তু কৃষি বিভাগের হাইব্রিড মুগডালের উৎকর্ষতার কারণে সে সোনামূখী মুগডাল এখন বিলুপ্তির পথে। অধিক ফলন পাওয়ার আশায় কৃষকরাও এখন সোনামূখী মুগডালের পরিবর্তে হাইব্রিড মুগডাল চাষে ঝুঁকে পরছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সরোয়ার জামান জানান, চলতি বছরে বাউফলে ১৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে মুগডাল চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারন করা হয়েছিল। কিন্তু চাষ করা হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। প্রতি হেক্টরে ১ মে.টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও অনুকুল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন হয়েছে ১.২ মে.টন। ফলে লক্ষ্যমাত্রার থেকে উৎপাদন বেশি হয়েছে। অপরদিকে বেশি ফলন পাওয়ার আশায় স্থানীয় জাতের সোনামূখী মুগডাল এখন চাষই করা হচ্ছেনা। চৈত্রের দ্বিতীয় পক্ষ থেকে জৈষ্ঠ্যের প্রথম পক্ষ পর্যন্ত মুগডাল তোলা হয়। কালাইয়া বন্দরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আশা পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে স্থানীয়সহ আশপাশের উপজেলায় উৎপাদিত হাজার হাজার টন মুগডাল নিয়ে কুষকরা প্রতি হাটের দিন হাজির হন। পাইকাররা স্থানীয় আরৎদারদের মাধ্যমে ওই ডাল ক্রয় করে থাকেন। কৃষকরা জানান, বৈশাখের  দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রতি মণ (স্থানীয়ভাবে ৪৮ কেজি) মুগডাল ২ হাজার ৩০০ শত টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা ছিল। কিন্তু স্থানীয় আরৎদারদের সিন্ডিকেটের কারণে বর্তমানে প্রতি মণ মুগডালের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় নেমে এসেছে। ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অপরদিকে আরৎদাররা জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে মুগডালের চাহিদা আগের থেকে কম। কিন্তু আমদানি বেশি। ফলে পাইকাররা মুগডাল ক্রয়ে তেমন আগ্রহী নন। এদিকে আরৎদাররা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের থেকে আরৎদারি নিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন। কৃষকরা জানান, আরৎদাররা প্রতি কেজিতে বিক্রেতার থেকে ৫০ পয়সা এবং ক্রেতার কাছ থেকে ৫০ পয়সা আরৎদারি নেন। ফলে প্রতিমণ ডালে তারা ৪৮ টাকা আরৎদারি নিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় আরৎদাররা পাইকারদের থেকে অগ্রিম টাকা আনার সুযোগ গ্রহণ করায় কৃষকদের স্বার্থের পরিবর্তে পাইকারদের স্বার্থে সিন্ডিকেট করে ডালের দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন। যদিও এযুক্তি আরৎদাররা মানতে রাজি নন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সরোয়ার জামান জানান, সরকারি সহায়তায় কৃষক পর্যায়ে ডাল সংরক্ষণ করাতে পারলে তারা যথাসম্ভব উপকৃত হতো।