বাউফলে ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয়ে ব্যবসায়িদের ঢালাও জরিমানা

0

 

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক সহকারি পরিচালক নিজেকে ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয় দিয়ে বাউফলের বিভিন্ন হাট বাজারের ব্যবসায়িদের থেকে ঢালাওভাবে জরিমানা আদায় করেছেন। সোমবার(২৭ জুন) বাউফলের কালাইয়া, বগা ও কালিশুরী বাজারে এঘটনা ঘটেছে। ভূক্তভোগী ব্যবসায়িরা ভূয়া পরিচয় দিয়ে জরিমানা করার বিচার চেয়ে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পটুয়াখালী জেলা অফিসের সহকারি পরিচালক মো. সেলিম সোমবার বাউফল থানায় গিয়ে নিজেকে ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয় দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহায়তার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পুলিশ চান। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন যাচাই বাছাই না করেই দুজন পুলিশকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে পাঠান। পুলিশ নিয়ে মো.সেলিম কালাইয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে কয়েক ব্যবসায়িকে ৩০ হাজার টাকা হারে জরিমানা করেন। এঘটনা সংবাদকর্মীদের নজরে এলে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহামুদ জামানকে জানালে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। এক পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে জেলা প্রশাসন থেকে কোন ম্যাজিষ্ট্রেট দেয়া হয়নি নিশ্চিত হয়ে সহকারি পরিচালক মো. সেলিমকে কালাইয়া বন্দর থেকে ইউএনও অফিসে নিয়ে আসা হয়। এসময় মো. সেলিম ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার আইনের ৩৮ ধারা মোতাবেক মহাপরিচালক কিংবা তার নিয়োগকৃত প্রতিনিধি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা রাখেন বলে জানালে সে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কী না সেটা দেখতে চাইলে মো. সেলিম কিছুই দেখাতে পারেননি। পরে তাকে পটুয়াখালী ফেরত পাঠানো হয়েছে। এদিকে কালাইয়া বন্দরের ব্যবসায়ি সজল কুমার সাহা ও শ্যামল পাল ভূয়া ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয় দিয়ে অতিরিক্ত জরিমানা আদায়ের বিচার দাবি করে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালত সংক্রান্ত সকল ঘটনা জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।