বাউফলে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রীর বাড়ির পূজা হচ্ছেনা

0

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন পর বন্ধ হয়ে গেল যুক্তফ্রন্ট সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বাউফলের কালাইয়া ইউনিয়নের কর্পূরকাঠী গ্রামের মনোরঞ্জন সিকদার বাড়ির দুর্গোৎসব। সম্প্রতি ওই পূজা মন্ডপের সাধারন সম্পাদক অক্কুর মিস্ত্রীর ছেলে পশু ও পল্লী চিকিৎসক অশোতমা মিস্ত্রী ওরফে অশোককে নৃশংসভাবে খুন করার প্রতিবাদে এলাকাবাসি পূজা বন্ধ রেখেছেন বলে পূজা মন্ডপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জানিয়েছেন।

পূজা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ২৩ জুলাই রাত ৯টার দিকে অশোতমা মিস্ত্রী ওরফে অশোক বাড়ির উঠোন থেকে নিখোঁজ হয়। এব্যপারে অশোতমার ছোট ভাই রিপন মিস্ত্রী ২৪ জুলাই বাউফল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করলেও এক সপ্তাহ পর্যন্ত পুলিশ অশোতমার কোন হদিস দিতে পারেননি। ২৯  জুলাই শুক্রবার বিকেল ৬টার দিকে পুলিশ স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী শৌলা গ্রামের হাঁসের চর এলাকার বিল থেকে অশোতমার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেন। ওই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। খুব প্রয়োজন না হলে সন্ধার পর ওই গ্রামের কেউ ঘড়ের বাইরে বের হন না। ওই গ্রামের নীরেন ওরফে পল্টু সিকদার জানান, মনোরঞ্জন সিকদারের বংশধরদের বেশিরভাগ সদস্যই বাউফল সদরে বসবাস করছেন। তাদের সহযোগিতায় গ্রামের লোকজন ওই বাড়ির পূজা উদযাপন করে আসছেন। অশোতমা ওই পূজা কমিটির সাধারন সম্পাদক ছিলেন। পল্টু সিকদার বলেন, গ্রামবাসিদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। পূজা করতে কেউ ভরসা পাচ্ছেনা। দু’মাস আগে একটা মানুষকে নৃশংসভাবে খুন করা হলেও এখনো খুনের কোন কিনারাই করতে পারেনি পুলিশ। অথচ গ্রামের লোকজনের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে খুনের মদতদাতা ও খুনিদের নাম। অশোতমার লাশ উদ্ধারের সময় বাউফল থানার ওসি একবার এসেছিলেন। পরে আর তিনি আসেননি। গ্রামবাসিরা মনে করেন, পুলিশ প্রভাবশালীদের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে সঠিক তদন্ত করে খুনের আসল রহস্য উন্মাচন এবং খুনিদের আটক করতে পারেন। পূজা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপন সিকদার জানান, জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি মহোদয়ের নিজ ইউনিয়নে দু’মাস আগে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। খুনিদের এখনো ধরতে না পারাটা কোনভাবেই গ্রামবাসিরা মেনে নিতে পারছেন না। একারণে গ্রামবাসিদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই পূজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দেওয়া না হবে ততদিন পর্যন্ত এ গ্রামের বাসিন্দরা সকল ধরণের সার্বজনীন ধর্মীয় উৎসব বন্ধ রাখবেন। এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন খান জানান, খুনের ঘটনা নি:সন্দেহে দু:খজনক। খুনিদের আইনের আওতায় আনা হবে গ্রামবাসিদের এবিষয়ে বারংবার বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু দু:খজনক হলেও তারা কথা শোনেনি। কালাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম ফয়সাল আহমেদ মনির হোসেন মোল্লা বলেন, প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী মনোরঞ্জন সিকদার বাড়ির পূজা কমিটির সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তারা পূজায় আগ্রহী হয়নি। বাউফল থানার ওসি আজম খান ফারুকী বলেন, গ্রামবাসিরা পূজা করবেন না এটা শেষ মূহুর্তে জানা গেছে। তবে যে কারণ দেখিয়ে গ্রামবাসিরা পূজা বন্ধ করেছে সেটার ব্যপারে আমরা সচেতন আছি। আসামিদের ধরতে আমাদের চেষ্টা অব্যহত আছে।