বাউফলে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুকে নির্যাতন

1

বাউফল প্রতিনিধি ঃ পটুয়াখালী বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রায় তাঁতেরকাঠী গ্রামে যৌতুকের দাবিতে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধুকে নির্যাতন করে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গত বুধবার সকাল ১০ টার দিকে ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি কার হয়েছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, নাজিরপুর ইউপির নাজিরপুর গ্রামের ভ্যান চালক শাহজাহান আকনের মেয়ে শিউলী বেগমের(২৫) সাথে একই ইউনিয়নের রায় তাঁতেরকাঠী গ্রামের ইয়াকুব আলী আকনের ছেলে মজিবুর রহমান আকনের সাথে ৮ বছর আগে বিয়ে দেয়া হয়। তাদের সংসারে তামিম (৬) ও মরিয়ম (২) নামের দুটি ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মজিবুর ব্যবসা করতে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য শিউলীকে চাপ দিতে থাকে এবং টাকার জন্য প্রায়শ:ই শিউলীকে মারধর করতো। এনিয়ে তাদের বৈবাহিক জীবনে অশান্তি লেগেই থাকতো। গত ২ মার্চ সকাল ৯ টার দিকে মজিবুর টাকার আনার জন্য শিউলীকে বাবার বাড়ি যেতে বললে তাদের মধ্যে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। ওই ঝগড়াকে কেন্দ্র করে মজিবুর ও তার ঘরের অন্যান্য সদস্যরা শিউলীকে বেধরক মারধর করে। এক পর্যায়ে শিউলী দৌড়ে বাড়ির অন্য ঘরে আশ্রয় নিলে সেখান থেকে তাকে ধরে এনে আরো অমানবিক নির্যাতন করে ঘরের মধ্যে আটকে রাখে।বাড়ির লোকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শিউলীর বাবা শাহজাহান মেয়েকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য আনতে গেলে মজিবুর তাকেও বেধরক মারধর করে তারিয়ে দেয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বাউফল থানার এসআই নাসির উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে শিউলীকে চিকিৎসার জন্য বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে চলে আসেন। কিন্তু শিউলীকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে স্বামীর বাড়ির লোকজন তাকে ঘরে আটকে রাখে। শিউলীর বাবা শাহজাহান গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শিউলীর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিটের চি‎হ্ন রয়েছে।

বাউফল থানার ওসি আ জা ম মাসুদুজ্জামান জানান, এটা পারিবারিক সহিংসতা বিষয়ক ঘটনা। স্থানীয়রা মিমাংসা করে দেবেন বলে এব্যাপারে কোন মামলা হয়নি এবং শিউলীকে চিকিৎসার জন্য হাসাপাতালে আনা হয়েছে।