বাউফলে সরকারি বিধিবিধান অগ্রাহ্য করে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠন

1

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের আ.স.ম. ফিরোজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরকারি বিধিবিধান অগ্রাহ্য ও তথ্য গোপণ করে নিজের খেয়াল খুশি মত ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য বোর্ডে পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় এলাকার অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সূত্র জানান, উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের আ.স.ম. ফিরোজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের  ৮ আগষ্ট ২০১৬ থেকে ৭ আগষ্ট ২০১৮ ইং তারিখ পর্যন্ত দুই বছর মেয়াদী ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করলে উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে কমিটি গঠনের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে প্রধান শিক্ষক নির্বাচন সম্পর্কে কোন মিটিং করেননি। তিনি বিধিবর্হিভূতভাবে ভোটার তালিকা প্রনয়নসহ নির্বাচনী কার্যক্রম সমাপ্ত এবং কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য গত ৬ আগষ্ট বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণ করেছেন। সরকারি বিধি মোতাবেক বিধবা মহিলাগণ ভোটার হওয়ার যোগ্য হলেও এক্ষেত্রে ওই নিয়ম মানা হয়নি। সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে প্রথম মিটিং করে সভাপতি নির্বাচনের কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক কোন মিটিং না করেই সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর জাল করে রেজুলেশন করেছেন। দাতা সদস্য হওয়ার জন্য নির্বাচনের ৬ মাস পূর্বে স্কুলের তহবিলে ২০ হাজার টাকা জমা দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু সে নিয়ম না মেনে প্রধান শিক্ষক একজনকে দাতা সদস্য বানিয়ে তাকে সভাপতি নির্বাচন করেছেন। অপরদিকে যাদেরকে সদস্য করা হয়েছে তারাও নির্বাচন সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানা গেছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. আবুল বশার তালুকদার জানান, এধরণের অভিযোগ তারা পাননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহামুদ জামান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অলি আহাদ অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিয়ম মেনেই ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানান, সকল প্রকার কাগজপত্র প্রধান শিক্ষকই প্রস্তুত করেছেন। প্রতিদ্বন্দী কোন প্রার্থী না থাকার কারণে স্কুলে গিয়ে নির্বাচন করার প্রয়োজন হয়নি। প্রধান শিক্ষক আ: রব বলেন, বিধিবিধান মেনেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।