বাউফলে স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রী ঘরছাড়া

1

অতুল পাল,বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে যৌতুকের দাবিতে এক পাষন্ড স্বামী তার স্ত্রীকে অমানবিক নির্যাতন করে ঘরছাড়া করেছে। দাবিকৃত যৌতুক না দেয়া পর্যন্ত স্ত্রীকে ঘরে তোলা হবেনা বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধু এখন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমন অমানবিক ঘটনাটি বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামে ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর পূর্বে নাজিরপুর ইউপির ধানদী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা পরিসংখ্যাণ কর্মকর্তা মো. সামসুল হক হাওলাদেরর মেয়ে ইয়াসমিনের (২৮) সাথে একই ইউপির নাজিরপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে মো. মাইনুল ইসলাম ওরফে ইউসুফের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্নালংকারসহ প্রায় তিন লাখ টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়। এরপর দু বছরের মধ্যে ইয়াসমিনের কোলে একটি কন্যা সন্তান আসে। জানা গেছে, ইয়াসমিনের বাবা ওই কন্যা সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর জন্য একটি গাভী ও নগদ আরো এক লাখ টাকা দেন। এক পর্যায়ে ইয়াসমিনের মা ও বাবা দুজনেই মারা গেলে ইয়াসমিনের বাবার বাড়ি থেকে সাহায্য সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যায়। এরই মধ্যে ইয়াসমিনের স্বামী ইউসুফ পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এ কারণে গত দুই বছর পর্যন্ত কারনে অকারণে ইউসুফ তার স্ত্রী ইয়াসমিনকে মারধর করে নির্যাতন করে আসছে। ইয়াসমিন বলেন, গত ৯ মে ইউসুফ টাকার জন্য তাকে বেধরক মারধর করে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার অপরাধে ওই দিন রাতেই তার কোলের সন্তান রেখে দিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়। ব্যবসার জন্য বাবার বাড়ি থেকে আরো টাকা এনে না দিলে তাকে আর ঘরে তোলা হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন। এরপর থেকে ইয়াসমিন বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি বাড়ি রাত কাটাচ্ছেন। ইয়াসমিনের শ^শুরবাড়ির লোকজন ইয়াসমিনকে তার কোলের বাচ্চার সাথেও দেখা করতে দিচ্ছেনা। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেননা। এবিষয়ে জানতে ইউসুফের মোবাইলে ফোন করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।