বাউফলে হাঁতুড়ি পেটা করে  স্ত্রীর পা ভেঙ্গে দিয়েছে পাষন্ড স্বামী

4
mde

 

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি বাউফল: ব্যবসার জন্য টাকা চেয়ে না পেয়ে অঞ্জনা রানী (৩০) নামের এক গৃহবধূকে পৈশাচিক কায়দায় হাঁতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে একটি পা ভেঙ্গে দিয়েছে পাষন্ড স্বামী পরিমল শীল। তার নির্যাতন থেকে রক্ষা পায়নি পাঁচ বছরের শিশু প্রান্ত। শিশুটিকে বাবা ব্লেড দিয়ে পুঁচিয়ে আঙ্গুল কেটে দিয়েছে। পৈচাশিক নির্যাতনের পর ওই গৃহবধু ও শিশু সন্তানকে রাতের আধারে বাবার বাড়ি বাউফলের মদনপুরায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ বাউফল হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।

গৃহবধূ অঞ্জনা রানী জানান, ৬ বছর আগে পাশ^বর্তী বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের হনুয়া গ্রামের বিজয় শীলের ছেলে পরিমল শীলের সাথে তার বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী পরিমল শীল ব্যবসার করবে বলে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে আসছিল। বাবা ফরেশ্বর চন্দ্র শীল দিনমজুর। বিধায় টাকা দিতে পারেনি। টাকা না পেয়ে গত সোমবার বিকেলে স্বামী পরিমল শীল তাকে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাঁতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। এসময় তার শ্বাশুরী মায়া রানীও তাকে চুলের মুঠি ধরে চর-থাপ্পর মারে। একপর্যায়ে টেনে হেচরে তাকে মাটিতে ফেলে হাঁতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ডান পা ভেঙ্গে দেয়। মায়ের চিৎকার শুনে শিশু সন্তান প্রান্ত (৫) মাকে জড়িয়ে ধরলে পাষন্ড বাবা তাকেও মারধর করে এবং ব্লেড দিয়ে পুঁচিয়ে পুঁচিয়ে ডান হাতের দু’টি আঙ্গল কেটে দেয়। এরপর সন্ধ্যার পর অঞ্জনা রানী ও তার ছেলে প্রান্তকে একটি ভ্যান উঠিয়ে বাবার বাড়ি বাউফলের মদনপুরায় পাঠিয়ে দেন। পরে রাত ১১টায় দিকে অঞ্জনােেক বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, নির্যাতিতা অঞ্জনা রানী আঘাতের যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন। এসময় মায়ের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছে অবুঝ সন্তান প্রান্ত। অঞ্জনা রানীর  কপালসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দগদগে আঘাতের চি‎‎হ্ন এবং ডান পায়ে ব্যান্ডেজ রয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাঁতুড়ি পেটার কারণে শরীরের বাইরে ফুলা জখম হলেও অভ্যান্তরে রক্তক্ষরণ হয়েছে। ডান পা ভেঙ্গে যাওয়ায় তাকে স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। এবিষয়ে বাউফল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে অঞ্জনা জানিয়েছেন।