বাউফলে হাত বাড়ালেই ইয়াবা

8

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল : কেউ বলে বাবা, কেউ বলে গুটি, কেউ বলে গোলাপী। যে যে নামেই ডাকুক না কেন, মুলত এই মরণ নেশার নাম ইয়াবা। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সর্বত্র হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মরণনেশা ইয়াবা নামের এই মাদক। স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু লোকজন এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় ইয়াবার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে দাবী করেছেন অভিভাবকগন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাউফল উপজেলার প্রায় অর্ধশত স্পটে পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা ও গাঁজাসহ নানা প্রকার মাদকদ্রব্য। ওইসব স্পটে মাঝেমধ্যে আইন-শৃংখলা বাহিনী দায়সারা ভাবে অভিযান পরিচালনা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের শুরু হয় মাদকের রমরমা বাণিজ্য। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বাউফল পৌরশহরের হাসপাতাল চত্বর, পুরানো হাসপাতাল চত্বর, বালিকা বিদ্যালয় সড়ক, মুক্তিযোদ্ধা অডিটোরিয়াম, হাইস্কুলের পিছনের খালে পাড়, বাসষ্ট্যান্ড, গোলাবাড়ি, বাংলাবাজার, সাবরেজিষ্ট্রি অফিস চত্বর, সাহাপাড়া, বকুলতলা, বাউফল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পিছনে, কলেজ সংলগ্ন বটতলা এলাকা, কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, কালাইয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট, টেম্পোষ্ট্যান্ড, বাসষ্ট্যান্ড, কলেজরোড, ডালিমা ব্রিজ, শৌলা, ভূমি অফিসের পুকুর পাড়, দাসপাড়া ইউনিয়নের জালু ডাক্তার বাড়ি সংলগ্ন, ল্যাংড়া মুন্সির পুল, কাঠেরপুল, নওমালা ইউনিয়নের নগরের হাট, ভাঙ্গাব্রিজ, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মিলঘর, মাধবপুর, বগা ইউনিয়নের কলেজগেট, ফেরিঘাট, রাজনগর, হোগলা ব্রিজ, কনকদিয়া ইউনিয়নের কনকদিয়া বাজার, কালিশুরী ইউনিয়নের উত্তর বাজার, কুমারখালী, লঞ্চঘাট, চৌরাস্তা, ধুলিয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট, কাছিপাড়া ইউনিয়নের বাহেরচর, গোপালিয়া, পাকডাল, কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর, সিকদার বাজার, সূর্যমণি ইউনিয়নের নুরাইনপুর লঞ্চঘাটসহ অর্ধশত স্পটে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা ও গাঁজা সহ নানা রকমের মাদকদ্রব্য। গত ১০ ফেব্রুয়ারী উপজেলার কালাইয়া বন্দরের কলেজ রোড থেকে মিরাজ হোসেন নামের এক মাদক ব্যাবসায়ীকে প্রায় ১হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব সদস্যরা। মিরাজ প্রায় দুই মাস পর জেল থেকে বের হওয়ার পর আবারও সে ইয়াবা ব্যাবসায় জড়িয়ে পরে। সর্বশেষ মিরাজ ১হাজার ৫পিস ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে আয়নাবাজ কালাইয়া থেকে আবার গ্রেপ্তার হয়। সম্প্রতি বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ও বাউফল থানার ওসি আ জা ম মাসুদুজ্জামান বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে হাতেগোনা কয়েক মাদক সেবীকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও বড় ধরনের ব্যাবসায়ীরা রয়েছে নাগালের বাইরে। অপরদিকে অনেকটা সহজলভ্য হওয়ায় মাদকাশক্ত হয়ে পড়ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় অভিভাবক মহলও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। একাধিক সুত্র জানিয়েছে, মাদকের ছোবল বিস্তার গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় বেড়ে গেছে ছিচ্কে চুরির প্রবনতা। মাদকাশক্ত কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপকর্মে। আর এ ধরনের সন্তানদের অপকর্মের দুর্নাম থেকে বাঁচার জন্য বাবা মায়েরা সন্তানদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দ্বিধা করছেননা।

এ প্রসঙ্গে বাউফল থানার ওসি আ জা ম মাসুদুজ্জামান বলেন, আগের চেয়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।