বাউফলে ৪০ হাজার মিটার জালসহ ৮ জেলে আটক রাত নামতেই ইলিশ সরবরাহ শুরু

1

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি ঃ বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ রক্ষায় পরিচালিত অভিযান দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনের উদাসীনতা এবং প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে রোধ করা যাচ্ছেনা ইলিশ শিকার। জেলেরা বিভিন্ন পন্থায় ইলিশ শিকার করে রাত নামতেই ক্রেতাদের বাড়িতে ব্যাগে ব্যাগে সেগুলো পৌঁছে দিচ্ছেন। ইলিশ বন্ধে সরকার ঘোষিত অভিযানে বাউফলে এযাবতকালের মধ্যে এ মৌসুমেই বেশি ইলিশ শিকার হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। এদিকে কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের টহল দল গতকাল মঙ্গলবার ৪০ হাজার মিটার জালসহ ৮ জেলেকে আটক করেছেন।

সূত্র জানায়, বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীর ৪০ কিলোমিটার অভয়ারণ্যের ইলিশ রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে একটি, উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের একটি, কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি এবং কোস্টগার্ডের একটি টহল দল অভিযান চালাচ্ছেন। কিন্তু দলগুলোর মধ্যে কোন কর্ম পরিকল্পনা ও সমন্বয় নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। টহলরত দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে অবৈধ সুযোগ গ্রহণ ও অবৈধ সুযোগ প্রদানের অভিযোগ করে আসছেন। ফলে প্রভাবশালীসহ জেলেদের কৌশলের কাছে অসহায় হয়ে পরছেন টহলরত সকল দল। এ সুযোগ নিয়ে ইলিশ শিকারী ও বিক্রেতারা দিনে দুপুরে ইলশ শিকার ও বিক্রি করে যাচ্ছেন। উপজেলার কালাইয়া মাছ বাজারে বিক্রেতারা প্রায় খোলা মেলা ভাবেই ইলিশ বিক্রি করছেন এমন খবর প্রশাসনকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। একটি সূত্র জানিয়েছে, ইলিশ শিকারী জেলেরা তিন সেট জাল ব্যবহার করছেন। কোন কারণে যদি টহলরত দলের হাতে এক বা দুই সেট জাল ধরা পরে তবুও যেন জালের সংকট না হয় সে ধরণেরই পূর্ব প্রস্তুতি তারা নিয়ে রেখেছেন। এমন অবস্থায় বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকারের হরিলুট চলছে।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তর যার যার ইচ্ছে মত অভিযানে নামছেন। অভিযানের জন্য তাদের দপ্তর ভিত্তিক বাজেটও দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অভিযানের জন্য কোন বাজেট কিংবা সমন্বয় ও মনিটরিং করার নির্দেশনা দেয়া হয়নি। প্রত্যেকের স্ব স্ব দপ্তর তাদের সমন্বয় ও মনিটরিং করছেন। আমি শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিজ অর্থায়নে অভিযান চালাচ্ছি। একারণে আমি অর্থিক ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছি। তিনি আরো জানান, সমন্বয় ও মনিটরিংয়ের অভাবে অভিযান সার্বিকভাবে সফলতা পাচ্ছেনা।

কোস্টগার্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম.এ আকবর জানান, তাদের সমন্বয় ঠিকভাবেই হচ্ছে। দৈনিন্দন রিপোর্ট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিস ও ভোলায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণাঞ্চলীয় জোনাল অফিসে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া কোন জেলে কিংবা জাল নৌকা আটক হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মলয় দে জানান, কোন জেলে কিংবা জাল নৌকা আটক হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হস্তান্তর করি এবং দৈনিন্দন রিপোর্ট ঢাকায় নৌ পুলিশ ফাঁড়ির হেড কোয়ার্টার ও বরিশালে জোনাল অফিসে দিচ্ছি।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ৩০ হাজার মিটার জাল ও তিনটি ইঞ্জিন চালিত নৌকাসহ সাত জেলেকে কালাইয়া পয়েন্ট থেকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। আটককৃতরা হলেন, বিল্লাল খাঁ(৪৫), জহিরুল বেপারি(২২), সেলিম হাওলাদার(২০), মিরাজ হাওলাদার(২০), নাজমুল বেপারি(১৮), মিলন বেপারি(১৯) এবং এনামুল বেপারি(১৮)। এসময় কোস্টগার্ড ইঞ্জিন চালিত তিনটি নৌকাও আটক করেন। অপরদিকে মৎস্য বিভাগের অভিযানকারী দল ১৫ হাজার মিটার জালসহ বশির বিশ্বাস(৩৫) নামের এক জেলেকে মমিনপুর পয়েন্ট থেকে আটক করেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত আটককৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।   ##