বাউফলে ৫৬টি স্কুলের মেরামত কাজ না করেই টাকা উত্তোলন

0

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফলে ৫৬ টি প্রাইমারি স্কুলের মেরামতের জন্য দেয়া সরকারি টাকা কোন কাজ না করেই টাকা  উত্তোলন করে নিয়েছে স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকরা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অগ্রিম ভাউচার জমা দিয়ে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২০১৫-২০১৬ইং অর্থ বছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বাউফলের ৫৬টি প্রাইমারি স্কুল মেরামতের জন্য ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিটি স্কুলের মেরামত কাজ সম্পন্ন করে বিলের টাকা উত্তোলন করার কথা থাকলেও অধিকাংশ স্কুলের কাজ না করেই সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ৩০ জুন অগ্রিম ভাউচার দিয়ে বরাদ্দকৃত টাকা তুলে নিয়েছেন। সরেজমিন বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের ৭২ নং সরকারি প্রাইমারি স্কুল, ধুলিয়া ইউনিয়নের বারুজ্জিপাড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুল, বগা ইউনিয়নের ধাউরাভাঙ্গা ও কৌখালী সরকারি প্রাইমারি স্কুল, কাছিপাড়া ইউনিয়নের শহীদ জালাল প্রাইমারি স্কুল, কালিশুরী ইউনিয়নের সিংহেরাকাঠী ও ধলাপাড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুল ভবনের কোথাও কোন ধরণের মেরামত কাজ করা হয়নি। অথচ ওই সব স্কুলের মেরামত কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ৩০ জুন বিলের টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। নিয়মানুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার পর উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিন পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেয়ার পর বিল পরিশোধ করার কথা। ৭২ নং সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাজমা বেগম জানান, রমজান মাসে প্রতিটি স্কুল বন্ধ ছিল। তাই কাজ করা সম্ভব হয়নি। জুন মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না করলে বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত যাবে। তাই অগ্রিম বিল ভাউচার জমা দিয়ে টাকা তুলে হাতে রেখেছি। পরে সময় নিয়ে স্কুল মেরামতের কাজ করে নেব। তিনি বলেন, শুধু আমিই নয় অধিকাংশ স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক এ কাজটি করেছেন। এদিকে কাজ না করেই  অগ্রিম বিল তুলে নেয়ায় শংকা তৈরি হয়েছে। একাধিক স্কুলের অভিভাবক বলেন, সরকারি বরাদ্দকৃত টাকা লুটপাটের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব যৌতা সরকারি প্রাইমারি স্কুলের এক অভিভাবক বলেন, কাজ না করেই উত্তোলন করে নেয়া টাকা ইতিমধ্যে স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। একই অভিযোগ করেন পূর্ব দাসপাড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুলের অপর এক অভিভাবক। এ প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, এতগুলো কাজ মনিটরিং করার জনবল আমার নেই। লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রঙ্গলাল রায় বলেন, ইতিমধ্যে ৩১টি স্কুলের মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি গুলোর কাজও চলছে।