বাউফলে ৬৫ মন্দিরে দুর্গা পূজার আয়োজন

1

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল ঃ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এবছর ৬৫টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মন্দিরে চলছে শেষ মূহুর্তের তুলির আঁচর ও প্রস্তুতির ব্যাস্ততা। দুই-এক দিনের মধ্যেই রং-এর কাজ সহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা । দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। অপরদিকে চলছে মন্দিরে মন্দিরে লাইটিং ও সাজ-সজ্জ্বার প্রতিযোগিতা।

বাউফল থানা সূত্র জানিয়েছে, এবছর বাউফলের কালাইয়াতে ৪, বাউফলে ৮, বগায় ১০, কনকদিয়ায় ৫, দাশপাড়ায় ১, কেশবপুরে ২, ধুলিয়াতে ৬, মদনপুরায় ১, কাছিপাড়ায় ৫, কালিশুরীতে ৮, আদাবাড়িয়ায় ৬, নওমালায় ৩, সূর্যমনিতে ১ এবং বাউফল পৌর শহরে ৫টি মন্ডপে দুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ডপে ৪ জন আনসার-ভিডিপি ও একজন করে পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া পূজা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক টিম রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মন্ডপের পাশাপাশি রাস্তাঘাটে সার্বক্ষণিক মোবাইল টিম দিয়ে টহল দেয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর বাউফলের অলিপুরা গ্রামে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে দুর্গা পূজা সম্পন্নের জন্য প্রশাসন আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

বাউফল উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধীর রঞ্জন দাস জানান, কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে নির্ভিগ্নে দুর্গা পূজা উদ্যাপন করেত সর্বদা চেষ্টা করা হচ্ছে।pic-1

উপজেলার বাণিজ্য কেন্দ্র কালাইয়া বন্দরের মদন মোহন জিউর আখড়া বাড়ি কমিটির সভাপতি অতুল চন্দ্র পাল জানান, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রতীর চেতনা নিয়েই আমরা দুর্গোৎসব করছি। তবে দেশের শীর্ষ দুই যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় ঘোষণার পর পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা আরম্ভ হতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে একটি মহল আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা আশংকা বিরাজ করছে। আশা করছি, প্রশাসন এ ব্যপারে সজাগ থাকবেন।

বাউফল থানার ওসি আ জা মোঃ মাসুদুজ্জামান জানান, সার্বজনীন এ দুর্গোৎসব সাবলিলভাবে উদ্যাপনে পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে। যে কোন ধরণের বাঁধা-বিঘœ মোকাবেলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহামুদ জামান জানিয়েছেন, দুর্গা পূজার উৎসবকে সুন্দরভাবে উদ্যাপনে সকল ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজার সময় যে কোন ধরণের অপতৎপরতার খবর তাৎক্ষণিকভাবে জানানোর জন্য তার অফিসে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।