বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাছ কেটে ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠ নির্মান

4

pic-4

 

ডেস্ক রিপোর্ট : ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার অনুমতি না নিয়েই পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরের গাছ কেটে নিজের ইচ্ছে মতন ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠ বানাচ্ছেন এএসএম সায়েম নামের এক প্রভাবশালী চিকিৎসক। সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর প্রবেশ পথের ডান পাশে তিনজন শ্রমিক একটি মেহগনি গাছের ডালপালা ছাটাই করে গাছটি কাটছেন। কে গাছ কাটতে বলেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মো. পলাশ (২৫) নামে একজন শ্রমিক বলেন,‘সায়েম স্যারে দুইডা মেহগনি গাছ কাটতে কইছে। হে এইহানে ব্যাডমিন্টন খেলবেন।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, তার নাম এএসএম সায়েম। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগের স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের (স্বাচিপ) বরিশালের সাংগাঠনিক সম্পাদক। ছাত্রাবস্থায় সায়েম বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রলীগের ব্যানারে ভিপি ছিলেন। সেই প্রভাবে ওই ছাত্রনেতা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা কর্মকর্তা পদে যোগদানের পর দ্বিতীয় কর্মস্থল বাউফলে যোগদান করেন এক বছর আগে।

অভিযোগ রয়েছে, একেতো ক্ষমতাসীন দলের লোক। অপরদিকে বাউফলে তার নিজ বাড়ি হওয়ায় এখানে কর্মরত অন্য কাউকে সায়েম কোনো তোয়াক্কা করেন না। কেউ প্রতিবাদও করতে পারছেন না। তার ইচ্ছা অনুযায়ি চলে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সবকিছু। এ কারনেই কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই গাছ কেটে তিনি ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠ বানাচ্ছেন। অথচ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিছনের দিকে ফাঁকা জায়গা রয়েছে। এর আগে সেখানেই ব্যাডমিন্টন খেলা হত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর এক কর্মচারী বলেন,‘তার অসৌজন্যমূলক আচরণে সবাই ক্ষুব্ধ। কেউ প্রতিবাদ করলে অন্যত্র বদলির হুমকি দেওয়াসহ অপমান অপদস্ত করা হয়।’

চিকিৎসা কর্মকর্তা এএসএম সায়েম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘স্বাস্থ্য কমিটির অনুমতি নিয়ে গাছ কেটে ব্যাডবিন্টন খেলার মাঠ বানানো হচ্ছে।’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটি গাছ কাটার অনুমতি দিতে পারে না।’

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন মো. মজিবুল হক বলেন,‘নিয়ম অনুযায়ী বন বিভাগের ছাড়পত্র নেওয়ার পর গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের গাছ কাটার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।’