বাউফল পাবলিক লাইব্রেরী চালুর দাবীতে পাঠাগারা বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে চিফ হুইকে আবেদন পত্র

13

কৃষ্ণ কর্মকার. বাউফল ঃ পটুয়াখালীর বাউফলে পাবলিক লাইব্রেরী চালুর দাবিতে পাবলিক লাইব্রেরী বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ স্থানীয় সাংসদ আ স ম ফিরোজের বরাবর একটি আবেদন পত্র প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নিজ বাসভবনে বসে চিফ হুইপ ওই আবেদন পত্র গ্রহন করেন। এ সময় কমিটির আহ্বায়ক নিয়াজ মোর্শেদ ও সদস্য সচিব গোলাম মোর্শেদ আরিফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার একঝাক তরুনদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় কয়েক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পালিকমাঠ সংলগ্ন পাবলিক লাইব্রেরিটি চালুর দাবি জানান। সরকার দলীয় চিফ হুইপ স্থানীয় সাংসদ আ স ম ফিরোজ উপস্থিত তরুনদের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তরুন প্রজন্ম জন্য পাঠাব্যাস গড়ে তোলা এখন খুবই জরুরী হয়ে পরেছে। যুবক সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে এখন নেশার ছোবল, নীতি ও নৈতিকথার বিবর্জিত কাজ চলছে পদে পদে, প্রকৃত জ্ঞানের আলো থেকে সটকে পড়ছে তরুন প্রজন্ম এর সব কিছু থেকেই উত্তরনের অন্যতম ভ’মিকা রাখতে পাড়ে একটি আদর্শ পাঠাগার। আমি চাই সেই একটি আদর্শ পাঠাগার। যার উদ্যোগী হবে তোমরা তরুন প্রজন্ম আমি হব তোমাদের সহযাত্রী। তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে পাঠাগার বাস্তবায়ন কমিটির সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে এক সাথে বসে পাঠাগার চালু করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জানা গেছে, কর্তৃপক্ষের তদারকি ও উদাসীনতায় প্রায় ১৫বছরেরও অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে উপজেলার একমাত্র পাঠাগারটি। হয়েছে নিষ্প্রান। সংস্কারের অভাবে বৃষ্টির দিনে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। পলেস্তারা খসে পড়ছে দেয়ালের। ভেতরে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র ভেঙে গেছে। পাঠ্যবই, গল্প, উপন্যাসসহ প্রায় দেড়-দুই হাজার বিভিন্ন ধরনের বই ইঁদুর ও তেলাপোকায় নষ্ট করেছে। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠার পরে পাবলিকমাঠ সংলগ্ন বাউফল পাবলিক লাইব্রেরীটি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, পত্রিকাপাঠকসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে এলাকার জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়। নিজস্ব সংবিধান অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ লাইব্রেরী পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা না থাকায় ও পরিচালনা পরিষদের অবহেলায় বন্ধ হয়ে যায় লাইব্রেরীটি। এরপর বিভিন্ন সময়ে এটি চালুর দাবি উঠলেও তা কার্যকর হয়নি। কিছুদিন আগে থেকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মহলে পুনরায় লাইব্রেরিটি চালুর দাবি ওঠে এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তরুনরা মিলে ৩১ অক্টোবর শনিবার ‘পাবলিক লাইব্রেরি সংস্কারপূর্বক চালু করণ দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটি’ নামে এগার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।