বাউফল পৌর শহরে দুই কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দখল

0

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফল পৌর শহরের বাজার রোড এলাকায় খাল ও হালটসহ প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ১১ শতাংশ সরকারি জমি দখল করে একটি ৬ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী। ইতিমধ্যেই নির্মাণস্থলে যন্ত্রপাতি, ইট, বালু ও সিমেন্ট স্তুপ করে সমগ্র জমি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। কাজ দেখভাল করার জন্য একজন প্রকৌশলীকেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা ভূমি অফিস  ও স্থনীয় সূত্রে জানা গেছে, বাউফল পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বাউফল মৌজায় ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত ১০৬৬ দাগের ৭ শতাংশ জমি দৈনন্দিন বাজারের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং ১০৫৪ নং দাগের ১ শতাংশ জমি জনসাধারণের যাতায়েতের জন্য হালট রাখা হয়েছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক ব্যাক্তি ভূমি অফিসসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের ম্যানেজ করে ওই জমিসহ পাশের খালের ২ শতাংশ এবং “ক” তফশীলের দেড় শতাংশ জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের যাবতীয় কাজ চূড়ান্ত করেছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি হাট বাজার, খরস্্েরাতা খাল, হালট এবং অর্পিত সম্পত্তি বন্দোবস্ত কিংবা ডিসিআর দেয়ার আইনগত কোন বিধান নেই। এরপরেও প্রভাব খাটিয়ে এবং ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশে ২০০৯-১০ সালে পার্ট টু বাউ: নামজারি কেসের মাধ্যমে উক্ত সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধন করে ৫১৬ এবং ৫৪৩ নামে দুটি খতিয়ান খোলা হয়েছে। অপরদিকে খালের মধ্যে ১৪২২/১ নামে অপর একটি নতুন ম্যাপ সৃষ্টি করে ২ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওই ম্যপ ও রেকর্ড সংশোধণের কাগজপত্রে সহকারি কমিশানার (ভূমি) এর কোনো স্বাক্ষর নেই। এদিকে অবৈধভাবে জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে বাউফল বাজারের ব্যবসায়ি মহল। জাহাঙ্গীর হোসেন প্রভাবশালী হওয়ায় ব্যবসায়িরা তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাউফল বাজারের প্রবীন এক ব্যবসায়ি বলেন, ২০ বছর আগেও এখানে দুধ ও পানের বাজার ছিল। হালটটি দিয়ে নৌকা ও গয়না থেকে মালামাল ওঠানো নামানো হত। জনাকীর্ণ এই বাজারে আগুন লাগলে খাল থেকে যে পানি সংগ্রহ করবে দখলের কারণে সেই সুযোগটুকুও হাতছাড়া হয়ে গেল।  দ্রুত এই খাস জমি উদ্ধার করে জনস্বার্থে ব্যাবহার করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি দখলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমি কবলা সূত্রে এই জমির মালিক। উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) এর দায়িত্বে থাকা বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহামুদ জামান বলেন, বিষয়টি আমি জানার সাথে সাথেই নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে  কাগজপত্র দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।